নৃত্যের মঞ্চ থেকে অভিনয়ে বাজিমাত: ‘ফেস অফ টুমোরো’ দিয়ে মুনমুন বিশ্বাস মুনের নতুন পথচলা
ফেস অফ টুমোরো ২০২৬ প্রতিযোগিতায় সেকেন্ড রানারআপ হয়ে নাচের পাশাপাশি অভিনয়েও দারুণ চমক সৃষ্টি করেছেন প্রতিভাময়ী তরুণী মুনমুন বিশ্বাস মুন।
প্রকাশঃ
![]() |
| আমার ক্যারিয়ারে নতুন মোড় আসে‘ফেস অফ টুমোরো' মাধ্যমে :মুনমুন বিশ্বাস মুন |
দীর্ঘদিনের নাচের ক্যারিয়ার থেকে এবার সরাসরি রূপালি পর্দার অভিনয়ে পা রাখলেন প্রতিভাময়ী তরুণী মুনমুন বিশ্বাস মুন। সম্প্রতি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ফেস অফ টুমোরো ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় সেকেন্ড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে শোবিজ অঙ্গনে দারুণ সাড়া ফেলেছেন তিনি। শুধু এই মঞ্চের সেরাদের তালিকায় নিজের নাম লেখানোই নয়, এরই মধ্যে দশটি বিশেষ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের একটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়েরও দারুণ সুযোগ লুফে নিয়েছেন এই সম্ভাবনাময়ী শিল্পী। ফলে শুধু নৃত্যের ছন্দে নয়, বরং অভিনয়ের জাদুতেও দর্শক হৃদয় জয় করার এক বড় স্বপ্ন নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মুনমুনের পারিবারিক শেকড় মূলত খুলনায় প্রোথিত হলেও তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ঐতিহ্যে ঘেরা পুরান ঢাকার বুকে। বাবা তপন বিশ্বাস এবং মা অপর্ণা বিশ্বাসের স্নেহছায়ায় বড় বোনের সাথে তার বেড়ে ওঠা। সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস হাই স্কুল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ঐতিহ্যবাহী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নাচের প্রতি তার ছিল এক অদ্ভুত টান। মূলত মায়ের প্রবল আগ্রহ ও অনুপ্রেরণাতেই শৈশবে তার নাচের জগতে হাতেখড়ি হয়। তবে মুনমুন শুধু শখের বশেই নাচেননি, তিনি এই শিল্পের ওপর রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও গ্রহণ করেছেন। স্বনামধন্য বুলবুল ললিতকলা একাডেমি বা বাফা থেকে নাচের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ সার্টিফিকেট কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তিনি। নাচের জগতে তার প্রথম গুরু হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন প্রখ্যাত প্রশিক্ষক মিস উম্মে তাহমিনাকে। পরবর্তীতে নিজেকে আরও শানিত করতে তিনি শ্রীমান অনিক বসু এবং কস্তুরী মুখার্জির মতো গুণী শিল্পীদের কাছেও কঠোর তালিম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে নিয়মিত পারফর্ম করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ভারত ছাড়াও তিনি দক্ষিণ কোরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, নেপাল, মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরবের মতো বিভিন্ন দেশে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তার মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানের এই নৃত্যশিল্পীর ক্যারিয়ারে এক অভাবনীয় বাঁকবদল ঘটে ‘ফেস অফ টুমোরো ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে তিনি এই প্রতিযোগিতায় নিজের নাম নিবন্ধন করেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে শর্টলিস্টেড হওয়ার পর তাকে ফোনে অডিশনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সেই প্রথম অডিশনের অভিজ্ঞতা তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ভোর সাতটা থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তিনি বিচারকদের সামনে নিজের অডিশন দেওয়ার সুযোগ পান। সেই কঠোর পরীক্ষার বাধা পেরিয়ে তিনি সফলভাবে পরবর্তী রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত হন। এরপর একের পর এক কঠিন ধাপ সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করে তিনি জায়গা করে নেন কাঙ্ক্ষিত বুট ক্যাম্পে। দশ দিনব্যাপী আয়োজিত এই বুট ক্যাম্প মুনমুনের জন্য এক সম্পূর্ণ নতুন জগত উন্মোচন করে। অপরিচিত পরিবেশ এবং নতুন প্রতিযোগীদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা যেমন আনন্দের ছিল, তেমনি ছিল চরম চ্যালেঞ্জিং। সেখানে প্রতিযোগীদের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গভীর প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের জটিল টাস্কের মাধ্যমে তাদের মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হতো। এই বুট ক্যাম্পে গুণী প্রশিক্ষকদের সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ হয় তার। আবুল আজাদ কালাম তাকে অভিনয়ের খুঁটিনাটি শেখান, মোফাজ্জল হোসেন আলিফ দেন নৃত্যের উচ্চতর প্রশিক্ষণ। এছাড়া ক্যামেরার সামনের কলাকৌশল নিয়ে বরকত হোসেন পলাশ, শারীরিক ফিটনেসের ওপর আসিফ হাসান সাগর এবং স্টাইলিং ও র্যাম্প ওয়াকের ওপর বুলবুল টুম্পা তাদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেন। প্রতিটি প্রতিযোগীকে তাদের বাচনভঙ্গি, বুদ্ধিমত্তা এবং উপস্থিত বুদ্ধির মাপকাঠিতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়। চূড়ান্ত পর্বে বিশ জন প্রতিযোগী নিয়ে তৈরি হয় টপ টেন ফাইনালিস্ট কাপল। এই দশ জুটিকে কেন্দ্র করে দশটি ভিন্ন ভিন্ন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করাই ছিল আয়োজকদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেখানেই নিজের মেধার চূড়ান্ত স্বাক্ষর রেখে সেকেন্ড রানারআপের মুকুট ছিনিয়ে নেন মুনমুন বিশ্বাস মুন। এই অভূতপূর্ব অর্জনকে মুনমুন তার জীবনের অন্যতম সেরা ও অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি মনে করেন, সেরা দশে স্থান পাওয়াই ছিল তার জন্য এক বিরাট মাইলফলক, আর সেখান থেকে দ্বিতীয় রানারআপের খেতাব জেতা তার ক্যারিয়ারে এক নতুন পালক যুক্ত করেছে। এই সাফল্যের দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথচলায় পরিবারের প্রতিটি সদস্যের পাশাপাশি তার কাছের বন্ধুদের নিঃস্বার্থ সমর্থন ও ভালোবাসার কথা তিনি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এছাড়াও নতুন প্রতিভাদের এমন একটি বিশাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেওয়ার জন্য তিনি ‘মার্কেটার্স ৩৬০ ডিগ্রি’ এবং ‘চলো ঘুরে আসি’-এর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাদের সার্বিক সহযোগিতাতেই তিনি এই দশটি চলচ্চিত্রের একটিতে নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ পেয়েছেন। নাচের মঞ্চ থেকে ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের এই নতুন যাত্রাকে মুনমুন কেবল একটি সম্ভাবনাময় সূচনা হিসেবেই দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, শেখার কোনো শেষ নেই। তাই নিয়মিত অনুশীলন, নতুন বিষয় জানা এবং নিজেকে একজন পরিপূর্ণ ও পেশাদার অভিনয়শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। তার একমাত্র প্রত্যাশা, নিজের সাবলীল ও নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অগুনতি দর্শকের মনে আজীবন বেঁচে থাকবেন।

