ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ৫০ বোতল ফেন্সিডিল ও ৪০০ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার
![]() |
| মলানী লজিষ্টিক ক্যাম্পম্প স্পেশাল টিম ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) |
মাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এবার ঠাকুরগাঁওয়ে বড়সড় সাফল্য পেলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফেন্সিডিল এবং নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করেছে বিজিবির সদস্যরা। দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই তৎপরতা সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদ এবং নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে ৫০ বিজিবির অধীনস্থ মলানী লজিস্টিক ক্যাম্পের একটি চৌকস টহলদল এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করে। হাবিলদার মো. আশরাফুল ইসলামের সুদক্ষ নেতৃত্বে রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি শুরু করেন বিজিবি সদস্যরা।জানা গেছে, বিজিবির টহল দলটি সীমান্ত পিলার ৩৮৫/৫-এস থেকে আনুমানিক চার কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। সেখানে 'হরিণমারী ঈদগাহ মাঠ' নামক এলাকায় পৌঁছালে পাচারকারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল এবং ৪০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয় অভিযানকারী দল। বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
ঘটনাস্থল থেকে কোনো পাচারকারী বা মাদক কারবারিকে আটক করা সম্ভব না হলেও, চোরাকারবারিদের ধরতে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।এই বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়নের (৫০ বিজিবি) অধিনায়ক জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরণের চোরাচালান ও মাদকের বিস্তার রোধে তারা 'জিরো টলারেন্স' নীতি অবলম্বন করছেন। মানব পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধগুলো সমূলে উৎপাটন করতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কৌশলী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির এই ধরনের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার স্থানীয় সাধারণ জনগণকে এই জাতীয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করার জন্য বিনীত আহ্বান জানানো হয়েছে।


