জোরারগঞ্জে পুলিশের দুর্ধর্ষ অভিযান আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার ৩টি বাইক
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে পুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্য আটক এবং ৩টি চোরাই বাইক উদ্ধার করা হয়েছে।![]() |
| চোরাইকৃত মোটরসাইকেল |
চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের এক সাঁড়াশি ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসাথে উদ্ধার করা হয়েছে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ অপরাধকাজে ব্যবহৃত একাধিক সরঞ্জাম। ঘটনার সূত্রপাত ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখ ভোরে। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের সুযোগ্য নেতৃত্বে এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ মনির আহম্মদের পরিচালনায় পুলিশের একটি চৌকস দল রাত্রিকালীন টহলে নিয়োজিত ছিল। এমন সময় তাদের কাছে একটি গোপন ও নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য আসে যে, থানা এলাকার কোনো এক গোপন স্থানে কয়েকজন চোর চোরাই মোটরসাইকেল হাতবদলের বা বিক্রির পায়তারা করছে। কালক্ষেপণ না করে পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম-এর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির নিপুণ ব্যবহারের মাধ্যমে আসামীদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বিকেল ঠিক সাড়ে তিনটার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন ৪নং ধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাংলাবাজার এলাকার রজব আলী সওদাগর বাড়ির নুর হোসেনের পাকা বাড়িতে এক অতর্কিত ও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ফোর্স। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি চক্রের সদস্যদের। চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে চোর চক্রের ৬ জন সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো— ১নং করেরহাট ইউপির পূর্ব অলিনগরের মৃত মানু মিয়ার ছেলে মোঃ জামসেদ হোসেন প্রকাশ শুভ (২৩), একই এলাকার মোঃ পিন্টু মিয়ার ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম প্রকাশ জনি (২৬), বারইয়ারহাট পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের জামালপুর গ্রামের মৃত ছান উল্লাহর ছেলে সাইফুল ইসলাম প্রকাশ চাঁদ মিয়া (২০), ৪নং ধুম ইউনিয়নের নাহেরপুর গ্রামের মোঃ হুমায়ুন কবিরের ছেলে আসিফ মাহমুদ প্রকাশ অভি (২৪), ধুম এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৮) এবং ৬নং ইছাখালী ইউপির আবুরহাট দেওখালী এলাকার শামসুদ্দিনের ছেলে মোঃ মাশরাফি (২০)। প্রাথমিক এই অভিযান চলাকালে আসামীদের হেফাজত থেকে একটি মূল্যবান আর-ওয়ান-ফাইভ (R15) মডেলের মোটরসাইকেল এবং অপরাধীদের যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত ৬টি স্মার্টফোন জব্দ করে পুলিশ। তবে পুলিশের অভিযান এখানেই থেমে থাকেনি। আসামীদের থানায় নিয়ে এসে ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়ে তারা এবং চক্রের অন্যান্য গোপন আস্তানার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিনই রাত সাড়ে এগারোটার দিকে আবারও অভিযানে নামে পুলিশ। এই দ্বিতীয় ধাপে জোরারগঞ্জ থানাধীন ১নং করেরহাট ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ছত্তরুয়া এলাকায় অবস্থিত ‘করেরহাট বাইক ল্যাব’ নামক একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে হানা দেয় পুলিশের অভিযানিক দলটি। সেখান থেকে আরও দুইটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে একটি ‘হিরো’ এবং অপরটি ‘প্লাটিনা’ ব্র্যান্ডের। এভাবেই একটি সম্পূর্ণ চোর চক্রের নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হয়। এ ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পেনাল কোডের ৩৭৯, ৪১১ এবং ৩৪ ধারায় রুজুকৃত এই মামলার নম্বর-২১, তারিখ-১৩/০৯/২০২৬খ্রি.। পুলিশ জানিয়েছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রের শেকড় কতদূর বিস্তৃত এবং তাদের সাথে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে ধৃত আসামীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই সফল অভিযানের ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ ও মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

