মিরসরাইয়ে কাটাছরা ইউপি নির্বাচন: আধুনিক মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে মনোনয়ন চান বিএনপি নেতা আলীউল কবির
মিরসরাইয়ের কাটাছরা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আলীউল কবির। তার লক্ষ্য মডেল ইউনিয়ন গড়া।আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামের মিরসরাইয়েও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এর ধারাবাহিকতায় মিরসরাই উপজেলার ৭ নম্বর কাটাছরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং ওই ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলীউল কবির ইকবাল। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের স্বপ্নের আলোকে একটি সন্ত্রাসমুক্ত ও মাদকমুক্ত নিরাপদ ইউনিয়ন গঠনের জোরালো অঙ্গীকার করেছেন। রোববার সকাল ১১টার দিকে কাটাছরা এলাকায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন এই প্রবীণ নেতা। সেখানে তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাই, অতীতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য করা ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং আগামী দিনে ইউনিয়নকে ঘিরে নিজের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। নিজের রাজনৈতিক যাত্রার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অ্যাডভোকেট আলীউল কবির ইকবাল জানান, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে তৎকালীন সংসদ সদস্য ওবায়দুল হক খন্দকারের হাত ধরে তিনি বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলটিতে যোগদান করেছিলেন। এরপর সাধারণ জনগণের বিপুল সমর্থন ও প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি কাটাছরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনি স্মরণ করেন যে, সেই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আন্তরিক দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতায় তিনি তার ইউনিয়নে অভূতপূর্ব উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার মেয়াদের উল্লেখযোগ্য কিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র সৌদি আরব এবং জাপানের আর্থিক অনুদানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ৫টি সাইক্লোন শেল্টার বা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ। এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের অংশ হিসেবে ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কার ও নতুন গৃহ নির্মাণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১৯টি মাটির সড়ক পুনর্নির্মাণ, ৮টি কালভার্ট নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধার জন্য ৫টি খাল-ছড়া খননের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন। পাশাপাশি ২টি আধুনিক মাদ্রাসা ভবন নির্মাণসহ অগুনতি সমাজকল্যাণমূলক পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেছিলেন বলে জানান। বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী দলে থাকার কারণে যে অবর্ণনীয় নির্যাতন, জেল-জুলুম ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, সে কথা স্মরণ করে এই প্রবীণ জননেতা বলেন, তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি অটুট আনুগত্য এবং ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দল তাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে বলে তিনি শতভাগ আশাবাদী। অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান যে, এটিই হতে যাচ্ছে তার রাজনৈতিক জীবনের শেষ নির্বাচন। তাই অতীতে চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজগুলো অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছিল, সেগুলো সমাপ্ত করার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি কাটাছরা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন। পরিশেষে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, যদি দল তাকে মূল্যায়ণ করে মনোনয়ন প্রদান করে এবং তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন, তবে মিরসরাইয়ের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের নিবিড় সহযোগিতায় তিনি কাটাছরা ইউনিয়নকে একটি যুগোপযোগী, আধুনিক, নিরাপদ এবং সর্বাঙ্গীন সুন্দর মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবেন। তার এই ঘোষণায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

