ভাটিয়ারি ক্যান্টনমেন্ট কলেজে শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিদর্শকের পরিদর্শন
ভাটিয়ারি ক্যান্টনমেন্ট কলেজে শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিদর্শকের পরিদর্শন। সেনা পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের চমৎকার শৃঙ্খলা ও উচ্চ শিক্ষার মানের ভূয়সী প্রশংসা।এদিন সকালে তিনি স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর তিনি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিভাগ ও স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এর মধ্যে ছিল অত্যন্ত সুরক্ষিত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ বিজ্ঞানাগারসমূহ—যার মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান ল্যাব অন্যতম। এছাড়া তিনি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য স্থাপিত আইসিটি ল্যাব, দৃষ্টিনন্দন ক্যান্টিন কমপ্লেক্স, বিশাল অডিটোরিয়াম এবং বর্তমানে নির্মাণাধীন আট তলা বিশিষ্ট সুবিশাল একাডেমিক ভবনের অগ্রগতিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি কেবল অবকাঠামো দেখেই ক্ষান্ত হননি, বরং স্কুল ও কলেজ শাখার চলমান শ্রেণি কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনামূলক ও অনুপ্রেরণাদায়ক নানা মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেন।
পরিদর্শনের পরবর্তী ধাপে শিক্ষক মিলনায়তনে এক বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানের সুযোগ্য অধ্যক্ষ মেজর নাসির উদ্দিনের সুদক্ষ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রফেসর মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দিন তার দীর্ঘ কর্মজীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে শিক্ষকতা পেশার মহান মর্যাদা, গাম্ভীর্য ও মাহাত্ম্য অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় সবার সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শৃঙ্খলাবোধ, গতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো এবং গুণগত শিক্ষার মান সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি শিক্ষকদের নিবেদিত প্রাণ হিসেবে আখ্যায়িত করে উল্লেখ করেন, শিক্ষকমণ্ডলী যেভাবে নিজেদের মেধা ও শ্রম উজাড় করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কাজ করেন, ঠিক তেমনি এসব প্রতিষ্ঠানও শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তার এই প্রাঞ্জল, হৃদয়গ্রাহী ও প্রেরণাদায়ী বক্তব্য উপস্থিত শিক্ষকমণ্ডলী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম ও লেখাপড়ার চমৎকার মান দেখে মুগ্ধ হয়ে প্রফেসর মোছলেহ উদ্দিন পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনন্য অনুভূতির কথা লিপিবদ্ধ করেন। তিনি সেখানে লেখেন, "সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের অন্যান্য সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এক অনন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। ভাটিয়ারি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজও এর কোনো ব্যতিক্রম নয়। আমি এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।" এই পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

