পটুয়াখালীতে বলাৎকারের পর চুপ থাকতে শিশুকে ৫ টাকা দিলেন শিক্ষক,
পটুয়াখালীর দুমকিতে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদরাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিশুকে দেওয়া হয় ৫ টাকা।পটুয়াখালির দুমকি উপজেলা থেকে এক চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক সংবাদ সামনে এসেছে। শিক্ষার মতো মহান পেশায় যুক্ত একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে উঠেছে এক জঘন্য অপরাধের অভিযোগ। মাদরাসার এক নিষ্পাপ শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. ইব্রাহীম নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরবর্তীতে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে, উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত একটি মাদরাসায়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই সেদিন সকালে মাদরাসায় যায় ওই শিশুটি। ভোর আনুমানিক ছয়টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহীম শিশুটিকে একা পেয়ে সুকৌশলে একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। এরপর সেখানে তাকে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন। পাশবিক এই নির্যাতনের পর ঘটনাটি যাতে জানাজানি না হয়, সেজন্য শিশুটিকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন ওই শিক্ষক। এখানেই শেষ নয়, শিশুটির মুখ বন্ধ রাখতে তাকে মাত্র পাঁচ টাকা ঘুষ হিসেবে ধরিয়ে দেন তিনি! নির্যাতনের শিকার ওই শিশুটি কোনোমতে মাদরাসা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে আসে এবং কান্নায় ভেঙে পড়ে। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা খুলে বলে সে। শিশুটির মুখে বিস্তারিত শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। মুহূর্তের মধ্যেই এই খবর পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহীমকে আটক করে। পরে দুমকি থানা পুলিশের খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই শিক্ষককে তাদের হেফাজতে নেয়। এদিকে, জনরোষের মুখে পড়ে আটক হওয়ার পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন শিক্ষক মো. ইব্রাহীম। আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি দাবি করেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন দুমকি থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন। তিনি জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার বেশ কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

