সিংগাইরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে পৈশাচিক নির্যাতন ও হ'ত্যা
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিখোঁজের ১১ দিন পর বাঁশবাগান থেকে স্কুলছাত্রী মাহিয়ার খণ্ডিত ও দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার। দোষীদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল এলাকা।মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে এসেছে এক লোমহর্ষক ও হৃদয়বিদারক সংবাদ। নিখোঁজের দীর্ঘ ১১ দিন পর এক স্কুলছাত্রীর বীভৎস খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের খবরে গোটা এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, সেই সাথে ফুঁসে উঠেছে ক্ষুব্ধ জনতা। নিহত স্কুলছাত্রীর নাম মাহিয়া। বয়স মাত্র ১৫ বছর। সে সিংগাইর উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের আদরের কন্যা এবং স্থানীয় সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। গত ১০ই জুন স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় সে। সন্তানকে না পেয়ে পাগলপ্রায় পরিবার সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও কোনো সন্ধান পায়নি। চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মাঝেই কেটে যায় ১১টি দিন। অবশেষে গতকাল ২১শে জুন, রবিবার জামির্ত্তা চন্দননগরের কবরস্থান সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভিটার বাঁশবাগান থেকে মাহিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধারের চিত্রটি ছিল ভয়াবহ ও শিউরে ওঠার মতো। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুটিকে চরম পাশবিকতার শিকার হতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণের পর মাহিয়াকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ষণ করেছে নরপিশাচরা। অপরাধীরা এখানেই থেমে থাকেনি, নিজেদের পরিচয় লুকাতে ও আলামত নষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে মেয়েটির মুখমণ্ডল ও শরীরের একাংশ ঝলসে দেওয়া হয়। চরম নিষ্ঠুরতার নিদর্শনস্বরূপ নিথর দেহটিকে দুই টুকরো করে ওই নির্জন বাঁশবাগানের একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এমন রোমহর্ষক ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে সিংগাইর এলাকাজুড়ে শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সহপাঠীরা এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করছেন। তাদের একটাই দাবি, এমন নির্মমতার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন করতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এই জঘন্য অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

