সাভার পরিবহনের ধাক্কায় আহত বাঙলা কলেজ শিক্ষার্থী
সাভারে বেপরোয়া বাসের ওভারটেকিংয়ের জেরে কাঁচ ভেঙে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী গুরুতর আহত। ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভার অংশে আবারও বেপরোয়া বাসের তাণ্ডব। এবার বাসে বাসে প্রতিযোগিতার চরম মূল্যে গুরুতর জখম হলেন সরকারি বাঙলা কলেজের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। প্রতিদিনের মতোই সাধারণ যাত্রায় বেরিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন তিনি। আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম শান্তা আক্তার সাদিয়া। তিনি সরকারি বাঙলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী এবং বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির (বাকসাস) সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য। ঘটনার সূত্রপাত হয় গতকাল বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে। মিরপুর-১২ নম্বর থেকে রাজধানী পরিবহনের একটি বাসে চড়ে সাভারের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন সাদিয়া। কিন্তু যানজট আর চরম বিশৃঙ্খলার কারণে দীর্ঘ হচ্ছিল গন্তব্যের পথ। রাত তখন ৮টা ৪০ মিনিট। বাসটি সাভার ক্যান্টনমেন্টের আব্দুর রউফ গেট সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে তীব্র যানজটে আটকা পড়ে। কিছুক্ষণ পর যানজট কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলে বাসটি সামনের দিকে এগোতে থাকে। আর ঠিক তখনই ঘটে এক ভয়াবহ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ যাত্রী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দেওয়া রোমহর্ষক বিবরণ থেকে জানা যায়, যানজট ছাড়ার ঠিক পরপরই পেছন থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসে সাভার পরিবহনের একটি বাস। কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাজধানী পরিবহনের বাসটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করার চেষ্টা চালায় ঘাতক বাসটি। এ সময় পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে রাজধানী বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। কিন্তু তাতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেনি সাভার পরিবহনের চালক। যাত্রীদের প্রতিবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে ঘাতক বাসটি আবারও রাজধানী বাসের চালকের পাশের জানালায় প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত হানে। দ্বিতীয় দফার এই ভয়াবহ ধাক্কায় রাজধানী বাসের জানালার কাঁচ সজোরে ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় এবং তীক্ষ্ণ কাঁচের টুকরোগুলো বৃষ্টির মতো বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের ওপর ছিটকে পড়ে। দুর্ভাগ্যের শিকার হন জানালার পাশেই বসা শিক্ষার্থী শান্তা আক্তার সাদিয়া। ভাঙা কাঁচের বড় একটি টুকরো তার ডান হাতের কাঁধের ঠিক নিচের অংশে গভীরভাবে আঘাত করে। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে পড়েন তিনি। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে বাসের অন্যান্য যাত্রীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং অভিযুক্তকে ধরতে রাজধানী পরিবহনের চালক সাভার পরিবহনের বাসটিকে আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘাতক চালক অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে বাসটিকে দ্রুতগতিতে চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সড়কে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বাসে থাকা যাত্রী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে সড়কে বেপরোয়া গতিতে বাস চালানো এবং নিয়মবহির্ভূত ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পলাতক ঘাতক চালককে দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সড়কে এমন মৃত্যুর ফাঁদ সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।

