ফাইনালে আর্জেন্টিনা, গরু জবাই করে ভূরিভোজের আয়োজন।
কোটালীপাড়ায় আর্জেন্টিনার ফাইনাল উপলক্ষে লাখ টাকার গরু জবাই করে ভূরিভোজের আয়োজন। এতিমদের জন্যও রয়েছে খাবার ও বড় পর্দায় খেলা দেখার বিশেষ ব্যবস্থা।
ফুটবল মানেই বাঙালির রক্তে এক অন্যরকম শিহরণ। আর সেই উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দুতে যদি থাকে লাতিন আমেরিকার ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির দেশ আর্জেন্টিনা, তবে তো কথাই নেই। ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে নিজেদের প্রিয় দলের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে এক অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায়। প্রিয় দল শিরোপার মঞ্চে, তাই সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস রূপ নিয়েছে এক বিশাল মিলনমেলায়। কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের পবনাপাড় গ্রামে আর্জেন্টিনার একনিষ্ঠ সমর্থকরা লাখ টাকার বেশি মূল্যের একটি আস্ত গরু জবাই করে এক রাজকীয় ভূরিভোজের আয়োজন করেছেন। শুধু আনন্দ-উল্লাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তারা, পাশাপাশি এলাকার এতিম, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তাদের জন্যও এই বিশেষ খাবারের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল থেকেই পবনাপাড় গ্রামের কেএম চাঁদ মিয়া পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড স্পোর্টিং ক্লাব চত্বরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সীর শত শত মানুষ জড়ো হতে থাকেন সেখানে। শুধু এই গ্রামেই নয়, কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের নানা ক্লাব ও সংগঠনগুলোতে বিশাল সব প্রজেক্টর ও বড় পর্দায় দলবেঁধে খেলা দেখার এক জমকালো প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উৎসবের এই ঢেউ আছড়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের বাড়ি-ঘরেও, যেখানে পারিবারিকভাবেই তৈরি হচ্ছে নানা সুস্বাদু খাবার। পবনাপাড় গ্রামের একনিষ্ঠ আর্জেন্টিনা সমর্থক বরকতউল্লাহ গণমাধ্যমের কাছে তাদের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের কথা তুলে ধরেন। তিনি পরম উচ্ছ্বাসের সঙ্গে জানান, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে যখন আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেছিল, তখনও আমরা একইভাবে বিশাল ভূরিভোজের আয়োজন করেছিলাম। সেই আনন্দময় স্মৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবারও প্রিয় দলের ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে আমরা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি বড় মাপের গরু কিনেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, সবাই মিলে একসঙ্গে বসে উৎসবের আমেজে খেলা উপভোগ করা এবং প্রিয় দলের বিজয় উদ্যাপন করা। এদিকে কোটালীপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব এবং আর্জেন্টিনার আরেক নিবেদিতপ্রাণ ভক্ত মান্নান শেখ জানান আরও এক বিশাল আয়োজনের খবর। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার এই ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে কান্দি ইউনিয়নের সমর্থকেরা অভাবনীয় এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সেখানে প্রায় ১২টি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার পাশাপাশি প্রায় ৮ হাজার মানুষের জন্য এক বিশাল খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। যারা খেলা দেখতে উপস্থিত থাকবেন, তাদের কাউকেই খালি মুখে ফিরতে হবে না। সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় আর্জেন্টিনার ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে যে উৎসবের রেণু উড়ছে, তা যেন দেশের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের এক নিখাদ ভালোবাসারই অনন্য দৃষ্টান্ত।

