শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ১৮০ পিস ভার'তীয় শাড়ি উদ্ধার
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে বারইয়ারহাটে পুলিশের অভিযানে ১৮০ পিস অবৈধ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পলাতক।চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় চোরাচালান বিরোধী এক বিশেষ অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে নিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন দুপুর আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) হান্নান আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এই সফল অভিযানটি সম্পন্ন করে। ঘটনাস্থল ছিল জোরারগঞ্জ থানাধীন বারইয়ারহাট পৌরসভার এসএ পরিবহন কার্যালয়ের পাশের একটি খোলা প্রান্তর। জানা গেছে, চোরাকারবারিরা সেখানে অবৈধ পণ্যগুলো মজুত করছিল। পুলিশ যখন ওই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছায়, তখন সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬টি সুতলির বস্তা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বস্তাগুলো তল্লাশি করে দেখা যায়, প্রতিটি বস্তার ভেতরে সযত্নে রাখা আছে ৩০ পিস করে ভারতীয় শাড়ি। সব মিলিয়ে ৬টি বস্তা থেকে সর্বমোট ১৮০ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে, সরকারের মোটা অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যেই এই শাড়িগুলো সীমান্ত পেরিয়ে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং সুবিধাজনক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এগুলো বাজারজাত করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পুলিশের তৎপরতায় সেই ছক ভেস্তে যায়। এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি আগে থেকেই টের পেয়ে যায় ঘটনাস্থলে থাকা চোরাকারবারিরা। ফলে পুলিশের দলটি পৌঁছানোর আগেই তারা অত্যন্ত সুকৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে পুলিশ হাল ছাড়তে নারাজ। জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশাল চোরাচালান চক্রের সঙ্গে ঠিক কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটন করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। পলাতক আসামিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি এই বিষয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। সীমান্ত এলাকা এবং এর আশপাশের রুটগুলোতে চোরাচালান রোধে পুলিশের এমন কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

