কারাগারে বন্দি স্ত্রীকে দেখতে এসে গাঁজা নিয়ে ধরা স্বামী, জুটল কারাদণ্ড।
মাগুরা কারাগারে বন্দি স্ত্রীকে গাঁজা দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন স্বামী। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।কারাগার হলো অপরাধীদের সংশোধনাগার। কিন্তু সেই সংশোধনাগারেই যদি মাদকের অবাধ রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা চলে, তবে তা কতটা উদ্বেগজনক? ঠিক এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে মাগুরা জেলা কারাগারে। বন্দি স্ত্রীকে দেখতে গিয়ে অভিনব কায়দায় গাঁজা সরবরাহের চেষ্টাকালে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক যুবক। শুধু ধরা পড়াই নয়, এই অপরাধে তাকে তাৎক্ষণিক সাজাও ভোগ করতে হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম দবির মোল্যা। ২৮ বছর বয়সী এই যুবকের স্ত্রী তন্বী মাত্র দুদিন আগেই একটি মাদক সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে মাগুরা জেলা কারাগারে অন্তরীণ হন। স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার কারাগারের প্রধান ফটকে আসেন দবির। কিন্তু তার মনে ছিল অন্য ফন্দি। কারারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলের ভেতরে থাকা স্ত্রীর কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়ার এক দুঃসাহসিক পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে বিধি বাম! মাগুরা কারাগারের আরপি গেটে প্রবেশের সময় নিয়মিত ও কঠোর তল্লাশির মুখে পড়েন দবির মোল্যা। সেখানে দায়িত্বরত কারারক্ষীদের সতর্ক এবং তীক্ষ্ণ নজরদারির কারণে তার সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তল্লাশিকালে তার পরনে থাকা জিন্স প্যান্টের পকেট থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ৫০ গ্রাম গাঁজা। কারারক্ষীদের তৎপরতায় জেলের ভেতরে মাদক প্রবেশের এই ষড়যন্ত্রটি অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও কারা কর্তৃপক্ষের ধারণা, স্ত্রী তন্বী কারাগারে বসেও মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার গোপন ছক কষেছিলেন। আর এই কাজেই স্বামী দবির মোল্যাকে ব্যবহার করে বাইরে থেকে মাদকের চালান ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। সাধারণ মানুষের মাঝেও দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি গুরুতর অভিযোগ প্রচলিত রয়েছে যে, কারাগারের ভেতরে কয়েদিদের মধ্যে গোপনে মাদক বেচাকেনা চলে। এমনকি এসব অবৈধ কার্যকলাপে কিছু অসাধু কারারক্ষী বা কর্তৃপক্ষের লোকজনের ইন্ধন থাকতে পারে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। তবে এবারের এই আটকের ঘটনা প্রমাণ করে যে, অন্তত এই যাত্রায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয়নি। দবির মোল্যা হাতেনাতে আটক হওয়ার পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তারা। সেখানেই তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে পুরো ঘটনার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক অভিযুক্ত দবির মোল্যাকে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এই ঘটনাটি আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কারাগারের মতো একটি সর্বোচ্চ সুরক্ষিত জায়গায় মাদক প্রবেশের এমন অপচেষ্টা সত্যিই ভাবিয়ে তোলার মতো বিষয়। সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাদের কী অভিমত? দেশের কারাগারগুলোকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখতে বর্তমান নিরাপত্তা ও তল্লাশি ব্যবস্থাই কি যথেষ্ট, নাকি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে নজরদারি আরও নিশ্ছিদ্র করা প্রয়োজন?

