মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চরম অবহেলা,মুমূর্ষু রোগীকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দিতে অস্বীকৃতি।
মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মুমূর্ষু রোগীকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না দেওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
প্রকাশঃ
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে উঠেছে চরম দায়িত্বহীনতা এবং অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) স্থানান্তরের প্রয়োজন হলেও, রহস্যজনক কারণে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই অমানবিক ঘটনায় জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশও তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, জরুরি মুহূর্তে যদি মুমূর্ষু রোগীর কাজেই না আসে, তবে হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাখার যৌক্তিকতা কী? ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৯ মে (রাত আনুমানিক পৌনে ৯টা)। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই থানা এলাকার মিরসরাই ফিলিং স্টেশনের প্রায় ২০০ গজ দক্ষিণে ঢাকামুখী লেনে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় ৫৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা পথচারীকে পেছন দিক থেকে একটি বেপরোয়া গতির অজ্ঞাত মাইক্রোবাস সজোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ভয়াবহ এই ধাক্কায় ওই ব্যক্তি ছিটকে মহাসড়কের ওপর পড়ে যান এবং তার মাথায় গুরুতর জখম হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে মুহূর্তেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই আশেপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দায়িত্বরত চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে দেখেন। মাথায় মারাত্মক আঘাতের কারণে তাকে জরুরিভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন তারা। আর ঠিক এই সংকটময় মুহূর্তেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অমানবিক রূপটি সামনে আসে। মুমূর্ষু ওই রোগীকে দ্রুত চট্টগ্রামে নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত ও অযৌক্তিক কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সটি দিতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করে। রোগীর জীবন যখন সংকটাপন্ন, তখন সরকারি এই জরুরি সেবার এমন অমানবিক প্রত্যাখ্যান উপস্থিত সবাইকে হতবাক করে দেয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই দায়িত্বহীন আচরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে চরম হতাশা ব্যক্ত করেছে। এদিকে, আহত ওই ব্যক্তির সুস্পষ্ট কোনো পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দুর্ঘটনার পর তার পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুটের তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, তার বাড়ি মিরসরাই উপজেলার ৫ নম্বর ওসমানপুর ইউনিয়নে হতে পারে। অন্যদিকে, মহাসড়কে বর্তমানে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। কিন্তু মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই ঘটনাটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে এক বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন দাঁড় করিয়েছে।

