মেকআপ আর্টিস্ট নাহিদ আহমেদের অদম্য পথচলা: স্বপ্ন সুপারস্টার শাকিব খানের রূপসজ্জা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
সুপারস্টার শাকিব খানকে সাজানোর স্বপ্ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন সফল মেকআপ আর্টিস্ট নাহিদ আহমেদ।![]() |
| আমার সপ্ন নিজের হাতে সুপারস্টার শাকিব খানকে সাজানো: মেকআপ আর্টিস্ট নাহিদ আহমেদ |
রূপসজ্জা বা মেকআপ কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি সূক্ষ্ম শিল্প। আর এই সৃজনশীল শিল্পের দুনিয়ায় নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করা মোটেও কোনো সহজ কাজ নয়। নানা প্রতিকূলতা আর সমাজের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে নিজের মেধার গুণে এগিয়ে যাচ্ছেন উদীয়মান মেকআপ আর্টিস্ট নাহিদ আহমেদ। মেকআপের ওপর একটি পেশাদার ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে এই গ্ল্যামারাস জগতে তার আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়। তবে একজন প্রতিষ্ঠিত মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার এই যাত্রাটি তার জন্য একেবারেই মসৃণ ছিল না। শুরুর দিকে পরিবার এবং সমাজের অনেক মানুষের কাছ থেকেই তাকে নানা ধরনের বাধা, নেতিবাচক মন্তব্য ও অনীহার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশেষ করে এই পেশায় ছেলেদের কাজ করাকে কেন্দ্র করে যে চিরাচরিত সামাজিক ট্যাবু রয়েছে, সেটি তাকেও মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু কোনো বাধাই নাহিদকে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। এই কঠিন সংগ্রামের দিনগুলোতে নাহিদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন তার বড় মা, আপন বোন এবং ভাবি। তাদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও সাহস নাহিদকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যুগিয়েছে। প্রথমদিকে তার বাবা এবং ভাইয়ের এই পেশার প্রতি একেবারেই সম্মতি ছিল না। কিন্তু পরিবারের এই বৈরী পরিবেশে নাহিদের এক ফুফু এগিয়ে আসেন পরম মমতা নিয়ে। তিনি নাহিদকে মানসিকভাবে প্রচণ্ড সহযোগিতা করেন এবং তার স্বপ্ন পূরণে প্রতিনিয়ত উৎসাহ দিয়ে যান। পরিবারের সমর্থন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় নাহিদের আত্মবিশ্বাসও বহুগুণ বেড়ে যায়। নাহিদ আহমেদের স্বপ্ন কেবল বাংলাদেশের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তার হাতের জাদুকরী কাজ আর সৃজনশীলতা একদিন বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করবে। বাংলাদেশের মেকআপ শিল্পকে বিশ্বদরবারে একটি সম্মানজনক স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই পথচলায় মিডিয়া পাড়াও তাকে বেশ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। বিনোদন জগতের অনেকেই তাকে বড় বোনের মতো স্নেহ করেন এবং বিভিন্নভাবে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে 'ইন্টারন্যাশনাল ইনডিপেনডেন্টস উইনার ২০২৬' খেতাবপ্রাপ্ত তমা রশিদ নাহিদকে নিজের আপন ছোট ভাইয়ের মতো অত্যন্ত স্নেহ করেন। তার এই নিঃস্বার্থ উৎসাহ এবং পেশাদার সহযোগিতা নাহিদের ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করছে। পেশাগত জীবনে নাহিদের একটি অন্যতম বড় এবং লালিত স্বপ্ন রয়েছে। তিনি মনেপ্রাণে চান, অন্তত একবার হলেও নিজের হাতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের মেগাস্টার ও শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের রূপসজ্জা করার সুযোগ পাওয়া। ঢালিউড সুপারস্টারকে নিজের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ক্যামেরার সামনে উপস্থাপন করার এই আকাঙ্ক্ষা তাকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখতে এবং নিজের কাজের মান উন্নত করতে তাড়িত করে। বর্তমানে নাহিদ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট এবং ব্রাইডাল মেকআপের কাজ নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর পাশাপাশি তিনি নতুন প্রজন্মের মেকআপ আগ্রহীদের জন্য মেকআপ ক্লাস পরিচালনা করছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে অনেক শিক্ষার্থীকেও এই শিল্পের খুঁটিনাটি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। নাহিদের জীবনদর্শন অত্যন্ত সহজ ও ইতিবাচক। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, শেখার কোনো নির্দিষ্ট বয়স বা শেষ সীমানা নেই। তিনি আজীবন এই শিল্পের নতুন নতুন দিক সম্পর্কে শিখতে চান এবং নিজের অর্জিত সেই মূল্যবান জ্ঞান ও দক্ষতা অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে চান। স্বপ্ন তার আকাশছোঁয়া, আর সেই স্বপ্ন পূরণের পথটি অত্যন্ত বন্ধুর ও চ্যালেঞ্জিং। তবুও নাহিদ আহমেদ কোনোভাবেই থেমে যেতে রাজি নন। নিজের নিরলস পরিশ্রম, কাজের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার অদম্য আগ্রহকে পুঁজি করে মেকআপের দুনিয়ায় তিনি আরও অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বুনছেন।

