শাহজালাল বিমানবন্দরে আটক বৈষম্যবিরোধী সাবেক নেতা মাহদী হাসান
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ শাখার সাবেক নেতা মাহদী হাসানকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আটকে দিয়েছে পুলিশ। বাতিল হয়েছে তার জ্যামাইকা যাত্রা।![]() |
| বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সাবেক সদস্যসচিব মাহদী |
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে আবারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার সম্মুখীন হতে হলো। এবার দেশের প্রধান বিমানবন্দর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটকে দেওয়া হয়েছে। ফলে তার পূর্বনির্ধারিত বিদেশ যাত্রা বাতিল হয়ে গেছে। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে জ্যামাইকার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার কথা ছিল এই ছাত্রনেতার। নিজের নির্ধারিত ফ্লাইটে ওঠার জন্য যথাসময়ে তিনি বিমানবন্দরে উপস্থিতও হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটকে দেন। মাহদী হাসানের পারিবারিক সূত্র সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, তাকে কোনোভাবেই ফ্লাইটে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার কারণে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে তাকে ছাড়াই জ্যামাইকার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে নির্ধারিত বিমানটি। ঠিক কী কারণে একজন শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী নেতাকে এভাবে দেশের বাইরে যেতে বাধা দেওয়া হলো, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক গোপন সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, মাহদী হাসানের দেশত্যাগের ওপর সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা বা অনুমতি না থাকার কারণেই তাকে আটকে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মাহদী হাসানের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আচরণের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাকে নাজেহাল হতে হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট হবিগঞ্জ শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পুলিশ তাকে আটক করেছিল। সেবার প্রায় ২১ ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে থাকার পর একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর করে পরিবারের জিম্মায় তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন। একদিকে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, অন্যদিকে আন্দোলনকারী নেতাদের ওপর এমন নজরদারি ও দেশত্যাগে বাধা—সব মিলিয়ে বিষয়টি সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাহদী হাসানের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা প্রশাসনের পরবর্তী বিবৃতির দিকেই এখন সবার নজর।

