উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমিতে বন বিভাগের সাড়াশি অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ স্থাপনা, গৃহহীনদের পুনর্বাসনের আর্তি
উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বন বিভাগের অভিযান। ৪ একর জমি উদ্ধার, খোলা আকাশের নিচে গৃহহীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি।![]() |
| উখিয়ায় সংরক্ষিত বনের জায়গায় নির্মিত ঘর |
কক্সবাজারের উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমির প্রাণপ্রকৃতি রক্ষা ও সরকারি সম্পত্তি জবরদখলমুক্ত করার লক্ষ্যে এক বিশাল সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে বন বিভাগ। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৩, ৬ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই ঝটিকা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বসতঘর এবং দোকানপাটসহ অন্তত ৭টি স্থাপনা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে প্রায় ৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বন বিভাগের দাবি, সরকারি বনভূমির ওপর যে কোনো ধরনের অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বন কর্মকর্তারা।
![]() |
| দোকান গুঁড়িয়ে দিল "বনবিভাগ" |
এই বিশাল অভিযানে নেতৃত্ব দেন উখিয়া রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান। এছাড়া মাঠপর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন থাইংখালি বিটের কর্মকর্তা আরাফাত মাহমুদ, দোছড়ি বিটের ইমদাদুল হক, মোছারখোলা বিটের দীপক চাকমাসহ বন বিভাগের অন্যান্য স্টাফ এবং রেঞ্জের স্পেশাল ইআরটি টিমের সদস্যরা। তারা জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় এমন কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, এই আকস্মিক অভিযানে বেশ কয়েকটি পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া সকালে হঠাৎ করে অভিযান শুরু হওয়ায় ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সামান্যতম সুযোগও পাননি তারা। উচ্ছেদকৃত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাছকারিয়া বিল এলাকার মিজানের স্থাপনা, হাজিরপাড়ার সফিকয়ারা, সিরাজুল হক, আব্দুল কাদের ও দেলোয়ারের বসতঘর ও দোকান এবং দোছড়ি এলাকার ফরিদের বাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অত্যন্ত আক্ষেপের সুরে জানান, তারা দীর্ঘ সময় ধরে এই এলাকায় বসবাস করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করে নিজেদের পরিবারের অন্নের সংস্থান করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে নিজেদের মাথার ওপরের ছাদটুকু হারিয়ে বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে তারা এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও বনভূমি রক্ষা করা যেমন রাষ্ট্রের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য, তেমনি এই উচ্ছেদের ফলে বাস্তুচ্যুত হওয়া হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মানবিক দিকটিও কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভুক্তভোগীদের আকুতি, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন যেন তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কোনো বিকল্প বাসস্থান বা সুষ্ঠু পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বনভূমি রক্ষার পাশাপাশি এই অসহায় মানুষগুলোর কান্না মোচনে কী ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


