ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির বিশেষ অভিযান: ২৭১ বোতল ভারতীয় ফেন্সিবিলসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২৭১ বোতল ভারতীয় ফেন্সিবিলসহ এক মাদক চোরাকারবারি আটক। উদ্ধারকৃত মাদকের মূল্য ১ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকা।সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়েছে বিজিবি। এই অভিযানে ২৭১ বোতল ভারতীয় ফেন্সিবিলসহ (যা ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়) মোঃ আলতাফুর রহমান (২৫) নামের এক চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। উদ্ধারকৃত এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য এক লক্ষ আট হাজার চারশো টাকা বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি সূত্র। জানা যায়, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়। ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর অধীনস্থ নাগরভিটা বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি)-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য এবং সিভিল সোর্সের দেওয়া নিখুঁত খবরের ভিত্তিতে নাগরভিটা বিওপি-এর হাবিলদার মোঃ মশিউর রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে বিজিবির একটি চৌকস টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। বিজিবি সূত্রে বিস্তারিতভাবে জানানো হয় যে, সীমান্ত মেইন পিলার ৩৭৭ থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেলতলা নামক স্থানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও টহল দলের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যায় ওই কারবারি। গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি মোঃ আলতাফুর রহমান বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার অন্তর্গত বেলতলা গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিনের পুত্র। দীর্ঘ দিন ধরে সে সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে অবৈধ মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আটকের পর তার হেফাজত থেকে অবৈধভাবে নিয়ে আসা ২৭১ বোতল ভারতীয় ফেন্সিবিল জব্দ করা হয়। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এই জিরো টলারেন্স নীতি জনমনে ব্যাপক স্বস্তি নিয়ে এসেছে। ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানিয়েছেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে এবং সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নিবিড় বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাদক চোরাচালানকারী চক্রের শিকড় উৎপাটনে বিজিবির এ ধরনের ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি, মানব পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ সকল ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি তাদের কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। পরিশেষে, সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে, যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তা করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।


