রাজধানীর বাসে নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের হুমকি, ‘পরিস্থান’ বাসের হেলপারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
রাজধানীতে পরিস্থান বাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ উঠেছে হেলপারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মিরপুর থেকে মোহাম্মদপুরগামী 'পরিস্থান' বাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, চরম শারীরিক হেনস্তার চেষ্টা এবং প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাসটির এক হেলপারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যার প্রাক্কালে। ভুক্তভোগী ওই নারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একটি কলেজের গণিত বিভাগের প্রিলিমিনারি মাস্টার্সের (২০২০-২০২১ সেশন) একজন নিয়মিত ছাত্রী। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই শিক্ষার্থী ঘটনার লোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যার ঠিক আগে তিনি মিরপুর-১ নম্বর থেকে মোহাম্মদপুরের ৪০ ফিট এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিস্থান বাসটিতে ওঠেন। বাসটি কল্যাণপুর এলাকায় পৌঁছালে হেলপার যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া সংগ্রহ করতে আসে। এ সময় তিনি নিজের বৈধ স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থী হিসেবে নির্ধারিত ১০ টাকা ভাড়া প্রদান করেন। কিন্তু ভাড়া নেওয়ার সময় হেলপার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জানায় যে বাসটি মোহাম্মদপুর যাবে না, বরং আসাদগেট পর্যন্ত যাবে। ভুক্তভোগী ছাত্রী তখন বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিয়ে সম্মতি জানান। কিন্তু বাসটি যখন মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় পৌঁছায় এবং ছাত্রীটি তার গন্তব্য ৪০ ফিট এলাকায় নামার জন্য আসন ছেড়ে দরজার দিকে এগিয়ে যান, তখন হেলপার তার সাথে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ শুরু করে। হেলপার তাকে ক্ষিপ্ত হয়ে জেরা করতে থাকে যে কেন তিনি আসাদগেটে নামেননি। ছাত্রীটি এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যে তিনি গত ৫-৬ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং বাসের রুট সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। এরপরও হেলপার তাকে জোরপূর্বক বেড়িবাঁধ এলাকায় বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। ছাত্রীটি যখন ৪০ ফিট এলাকায় নামার বিষয়ে অনড় অবস্থান নেন, তখন হেলপার তার সাথে চরম দুর্ব্যবহার শুরু করে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, ঘটনার সময় বাসে অসংখ্য যাত্রী উপস্থিত থাকলেও কেউই এই প্রকাশ্য হয়রানির বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করেননি। যাত্রীদের এই নীরবতা আমাদের সমাজের চরম উদাসীনতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। হেলপারের ক্রমাগত অশালীন ও আক্রমণাত্মক আচরণের এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী আত্মরক্ষার্থে তাকে জুতো পেটা করার কথা বলে কঠোরভাবে সতর্ক করেন। এতে হেলপার আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রকাশ্যে ওই ছাত্রীকে অত্যন্ত কদর্য ভাষায় শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের হুমকি প্রদান করে। সে দম্ভভরে বলে যে পরবর্তীতে মিরপুরের দিকে যাওয়ার সময় ওই ছাত্রীকে একা পেলে সে চরম ক্ষতিসাধন করবে। ভুক্তভোগী ছাত্রীও সাহসের সাথে এই জঘন্য হুমকির কড়া প্রতিবাদ জানান। তবে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় এবং চারপাশের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভীতিকর থাকায় তিনি বাসটির নম্বর প্লেট টুকে রাখতে সক্ষম হননি। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ওই অভিযুক্ত হেলপারকে সামনে পেলে তিনি সহজেই শনাক্ত করতে পারবেন। এই ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একজন উচ্চশিক্ষিত নারী শিক্ষার্থী যদি খোদ রাজধানীতে প্রকাশ্য দিবালোকে বাসের স্টাফদের দ্বারা এমন ভয়াবহ যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের হুমকির শিকার হন, তবে সাধারণ নারীদের নিরাপত্তা আসলে কোথায়? এমন ভীতিকর পরিস্থিতিতে নারীরা কীভাবে স্বাধীনভাবে রাস্তায় চলাফেরা করবেন, সেই প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে। সচেতন নাগরিক সমাজ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত হেলপারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

