বিএফডিসিতে 'ছায়াসংসদ' বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন সরকারি বাঙলা কলেজ
বিএফডিসিতে জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ক ছায়াসংসদ বিতর্কে নিটারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন সরকারি বাঙলা কলেজ। কুইক রেন্টালের তদন্ত দাবি বিইআরসি চেয়ারম্যানের।দেশের চলমান জ্বালানি সংকট ও এর ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক জমজমাট ছায়াসংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। 'জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছায়া সংসদ' শীর্ষক এই মেধাভিত্তিক লড়াইয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চকে (নিটার) পরাজিত করে মর্যাদাপূর্ণ চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে সরকারি বাঙলা কলেজ। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির সুনিপুণ আয়োজনে এবং জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন এটিএন বাংলার সম্প্রচারে এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজিত হয়। যুক্তিতর্কের এই অনন্য আসরে তরুণ বিতার্কিকরা দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তাদের ক্ষুরধার যুক্তি উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জনাব জালাল আহমেদ। এছাড়া সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান জনাব হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশজুড়ে চলমান যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা রাতারাতি বা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরসন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে তিনি আশার আলোও দেখিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার যদি যথাযথ নীতি সহায়তা প্রদান করে, তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে এই বিপুল ঘাটতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। পাশাপাশি, বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের বহুল আলোচিত কুইক রেন্টাল প্রকল্পগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, এর আড়ালে ব্যাপক দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের জোর দাবি জানান তিনি। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবেলায় তিনি একক জ্বালানির ওপর নির্ভর না করে মিশ্র জ্বালানি ব্যবস্থাপনা বা মিক্সড এনার্জি ম্যানেজমেন্টের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, অনুষ্ঠানের সভাপতি জনাব হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ তার বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে জ্বালানি সংকটের নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতের ভুল, বিভ্রান্তিকর এবং বিশেষ গোষ্ঠীকে তোষণ করার যে জ্বালানি নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তার চরম মাশুল গুনতে হচ্ছে আজকের শিল্প খাতকে। তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশব্যাপী শিল্পকারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে গ্যাস ও বিদ্যুতের এই ভয়াবহ সমস্যা যদি নিরসন করা না যায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। একইসঙ্গে দেশের রপ্তানি আয়, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা এক চরম হুমকির সম্মুখীন হবে, যা দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রাকে স্থবির করে দিতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, তরুণ প্রজন্মের বিতার্কিকদের অংশগ্রহণে এই ছায়াসংসদ কেবল একটি প্রতিযোগিতাই নয়, বরং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে নীতিনির্ধারকদের জন্য এক চমৎকার দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। সরকারি বাঙলা কলেজের এই অসামান্য বিজয় প্রমাণ করে যে, দেশের তরুণ সমাজ জাতীয় সংকট নিয়ে কতটা গভীরভাবে চিন্তা করে।

