ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতিতে ফাটল, কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফরহাদের পদত্যাগ
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পরপরই সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতার অভিযোগে পদত্যাগ করলেন আমিরুল ইসলাম ফরহাদ।![]() |
| ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি -সাংবাদিক সমিতি |
শুরুতেই হোঁচট খেলো ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি। নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আমিরুল ইসলাম ফরহাদের আকস্মিক পদত্যাগ। জানা যায়, অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কমিটি গঠনের খবরের কালি শুকাতে না শুকাতেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন ফরহাদ। এক লিখিত ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি তার ক্ষোভ ও হতাশার কথা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তার মতে, সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের একদম সূচনালগ্নেই চরমভাবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল কলেজের প্রতিনিধিদের সাথে কোনো ধরনের গঠনমূলক আলোচনা বা যথাযথ সমন্বয় ছাড়াই অত্যন্ত গোপনীয় বা অভ্যন্তরীণ তথ্য বাইরে প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের অপেশাদার আচরণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি তিনি। ফলশ্রুতিতে, বাধ্য হয়েই তিনি এমন কঠোর সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে ফরহাদ আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আওতাভুক্ত সবকটি প্রতিষ্ঠানকে এক ছাতার নিচে এনে এই শক্তিশালী সাংবাদিক ফোরাম বা সমিতি গঠনের মূল কারিগর ছিলেন তিনি নিজেই। তার নিরলস প্রচেষ্টাতেই সবাই একত্রিত হতে শুরু করেছিল। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, পরবর্তী ধাপে কমিটি গঠনের যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, সেখানে চেইন অব কমান্ড বা সাংগঠনিক সমন্বয়ের মারাত্মক ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। নিজস্ব আদর্শ ও নীতির সাথে আপস করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তিনি নবগঠিত এই আহ্বায়ক কমিটির পদ এবং সংগঠনের সাধারণ সদস্যপদ—উভয় জায়গা থেকেই নিজেকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। পদত্যাগের এই কঠিন সিদ্ধান্ত জানানোর পাশাপাশি তিনি শুরু থেকে তার সাথে থাকা সংশ্লিষ্ট সকল শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। তবে তার এই আকস্মিক বিদায়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির ভবিষ্যৎ এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে সংগঠনটি এই সংকট কীভাবে কাটিয়ে ওঠে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

