মাদারগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর মিলল ৭ বছরের শিশুর মাটিচাপা লাশ
জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর ৭ বছরের শিশু মরিয়মের মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য।![]() |
| নিখোঁজের তিন দিন পর ৭ বছরের শিশুর "মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার" |
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিখোঁজ হওয়ার টানা তিন দিন পর মরিয়ম নামের সাত বছর বয়সী এক ফুটফুটে শিশুর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই নির্মম ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া এবং সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশু মরিয়ম মাদারগঞ্জ উপজেলার চর লোটাবর গ্রামের বাসিন্দা বাহাদুর মন্ডলের আদরের কন্যা। গত ১১ই সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। আদরের সন্তানকে চোখের আড়াল হতে দেখে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকেন। আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশী—কারো বাড়ির আঙিনাই তারা বাদ দেননি। কিন্তু কোথাও শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। উৎকণ্ঠা আর হতাশায় পার হয় তিনটি দীর্ঘ দিন। অবশেষে রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে ঘটে এক অভাবনীয় ঘটনা। রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটের দিকে চর লোটাবর এলাকার জামিনুর নামক এক ব্যক্তির বাড়ির সীমানার ভেতর থেকে মাটিচাপা অবস্থায় শিশুটির মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে এলাকার শত শত মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। খবর পেয়ে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় মাদারগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মাটি খুঁড়ে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ফুটফুটে এই অবুঝ শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই এভাবে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, কারাই বা এই জঘন্য অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িত, এবং ঠিক কীভাবে শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে—সেসব বিষয়ে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ। পুরো ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উন্মোচন করতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। একটি ৭ বছরের শিশুর এমন করুণ পরিণতি সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিল।

