ডাকসুর উদ্যোগে সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রকাশ’-এর ২য় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচিত।
ডাকসুর উদ্যোগে সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রকাশ’-এর ২য় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচিত। জিএস এস.এম. ফরহাদ ও সম্পাদক মুসাদ্দিকের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় এই মহতি আয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর আয়োজনে উন্মোচিত হলো সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রকাশ’-এর দ্বিতীয় সংখ্যা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ডাকসুর নিজস্ব সভাকক্ষে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালের এই বিশেষ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সাহিত্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস. এম. ফরহাদ। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব ও শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং পত্রিকাটির সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস. এম. ফরহাদ সাহিত্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি সমাজের সামগ্রিক সংস্কৃতি মূলত সাহিত্যের পাতাতেই চিরকাল বেঁচে থাকে। হাজার বছর আগের সমাজ ব্যবস্থা, মানুষের জীবনপ্রণালী এবং আর্থ-সামাজিক বিবর্তনের ইতিহাস জানতে হলে আমাদের তৎকালীন গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও স্মৃতিচারণের কাছেই ফিরে যেতে হয়। ভাষাটি ফার্সি, ইংরেজি, ল্যাটিন বা হিব্রু যাই হোক না কেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট সময় বা সমাজকে গভীরভাবে পাঠ করার একমাত্র মাধ্যম হলো সাহিত্য। তিনি আরও জানান, ডাকসুর উদ্যোগে অন্তত ২০টি ম্যাগাজিন প্রকাশের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এটি তাদের পঞ্চম প্রকাশনা। এর আগে নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক বিশেষ সংখ্যার পাশাপাশি নিয়মিত ম্যাগাজিন হিসেবে ‘আভাস’ প্রকাশিত হয়েছিল। বর্তমান সংখ্যা ‘প্রকাশ’-এ স্মৃতিচারণ, গল্প, কবিতা থেকে শুরু করে বুক রিভিউসহ বৈচিত্র্যময় লেখার সমাবেশ ঘটানো হয়েছে, যা সমাজের বিভিন্ন বয়সের মানুষের চিন্তাধারা ও আচরণকে প্রতিফলিত করে। অন্যদিকে, সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে সমসাময়িক সাহিত্যের সংকট এবং এর সমাধানের রূপরেখা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান সামগ্রিক সংকটের অন্যতম কারণ হলো সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সাধারণ মানুষের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি না থাকা। পার্শ্ববর্তী দেশের শহরকেন্দ্রিক প্রভাববলয়ের সমালোচনা করে তিনি প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। আলাওলের ইউসুফ-জুলেখা থেকে শুরু করে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য এবং পুঁথি সংগ্রাহক আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদের অবদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই পূর্ববঙ্গের সাহিত্য ছিল অত্যন্ত ঐশ্বর্যশালী। তবে সাহিত্যের বিকাশের জন্য যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন। তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন যে, সাহিত্যকে সমাজের দর্পণ ও মানুষের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এর পৃষ্ঠপোষকতা ক্ষমতা কাঠামোর হাত থেকে সরিয়ে সাধারণ পাঠকের হাতে তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি, লেখকরা যেন প্রকাশকদের কাছ থেকে তাদের ন্যায্য রয়্যালিটি পান, তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এমনটা হলেই কেবল আগামী দিনে নতুন নজরুল, ফররুখ কিংবা রবীন্দ্রনাথের মতো কালজয়ী সাহিত্যিকের জন্ম হবে। রিয়াদুল ইসলাম যুবার সাবলীল সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাহিত্য পত্রিকাটির সহ-সম্পাদক সাবিকুন্নাহার তামান্না, আফসানা আক্তার, খন্দকার নুর হোসাইন, রিজওয়ান য্যুবরান মানসুরী, সায়মুম ফেরদৌস, আসফাকউল্লাহ আসিফ ও সুহাইল মাহদিন প্রমুখের নিরলস অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। এছাড়াও ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন (খান জসিম), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হায়দার, কমনরুম রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা সহ হল সংসদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলেন।

