বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও নারীর ক্ষমতায়নের বার্তা নিয়ে থাইল্যান্ডে 'অনন্যা ফাতিমা'
মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ঐতিহ্য, জামদানি ও নারীর ক্ষমতায়নের বার্তা নিয়ে থাইল্যান্ড যাচ্ছেন মডেল অনন্যা ফাতিমা।![]() |
| আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে চান বাঙলার সংস্কৃতি |
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও উড়তে যাচ্ছে লাল-সবুজের পতাকা। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নারীর ক্ষমতায়নের অদম্য শক্তির গল্প বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার এক মহান ব্রত নিয়ে থাইল্যান্ডের পথে পা বাড়াচ্ছেন দেশের জনপ্রিয় ফ্যাশন মডেল এবং উপস্থাপিকা অনন্যা ফাতিমা। এবার তিনি 'মিস গ্র্যান্ড বাংলাদেশ' খেতাব নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ 'মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল' প্রতিযোগিতায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত থাইল্যান্ডের মাটিতে বসতে যাচ্ছে সৌন্দর্যের এই বিশ্ব আসর। এই দীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এই গ্ল্যামার কন্যা। অনন্যার মূল লক্ষ্য কেবল প্রতিযোগিতার মুকুট জয় নয়, বরং একজন আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশি নারী হিসেবে নিজ দেশের গৌরবময় ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং নারীর এগিয়ে যাওয়ার গল্প বিশ্বের বুকে সগর্বে তুলে ধরা। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপে তিনি বাংলাদেশের স্বতন্ত্র পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। তার এই যাত্রায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হলো নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ 'প্রজেক্ট শক্তি'। এই বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে চান। অনন্যা মনে করেন, একজন নারী যখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, তখন সে কেবল নিজেকে নয়, পুরো সমাজকে আলোকিত করে। বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প জামদানিকে। মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল-এর ন্যাশনাল কস্টিউম রাউন্ডে তিনি এই অনিন্দ্যসুন্দর জামদানির পোশাকে রানওয়ে মাতাবেন। এ প্রসঙ্গে এক আবেগঘন বার্তায় অনন্যা ফাতিমা জানান যে, তিনি কেবল জামদানি শাড়িকেই বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছেন না, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা হাজারো শ্রমিকের ঘাম এবং অসামান্য শিল্পবোধকেও সম্মান জানাচ্ছেন। তার মতে, যেসব কারিগর দিনের পর দিন হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে এই নিখুঁত বুননশৈলী তৈরি করেন, তারা বরাবরই লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে যান। এবার সেই নেপথ্যের কারিগরদের গল্পও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে দিতে চান তিনি। বাংলাদেশের নিজস্ব তাঁতশিল্পের এই অমূল্য রত্নকে আধুনিক নান্দনিকতার মিশেলে বিশ্বের সামনে তুলে ধরে দেশের একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে চান এই মডেল। পরিশেষে বলা যায়, থাইল্যান্ডের এই আন্তর্জাতিক আসরে অনন্যা ফাতিমার অংশগ্রহণ কেবল একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং এটি হয়ে উঠছে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নারীর অদম্য সাহসিকতার এক অনন্য প্রচারণামঞ্চ।

