ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ১৩ দফা: টিএসসি নির্মাণ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের জোর দাবি
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা টিএসসি নির্মাণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও অ্যাকাডেমিক অধিকার নিশ্চিতে ১৩ দফা দাবি জানিয়েছেন।![]() |
| ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি |
রাজধানীর বুকে নবগঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিকে (ডিসিইউ) একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রবিবার, ১৩ আগস্ট ঢাকা কলেজের ঐতিহাসিক শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই যুগান্তকারী দাবিগুলো তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাজধানীর একটি উপযুক্ত স্থানে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র বা টিএসসি নির্মাণ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় মানের শিক্ষাদানের জন্য শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নাঈম হাওলাদার। তিনি তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ঢাকার স্বনামধন্য সাতটি সরকারি কলেজকে একত্রিত করে যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য হলো অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ সাধন, গবেষণামুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক চমৎকার শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা। তবে শুধুমাত্র নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করলেই এই লক্ষ্য অর্জিত হবে না। বর্তমানে যেসব শিক্ষার্থী এই কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত আছেন, তাদের অ্যাকাডেমিক ভবিষ্যৎ ও অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যাবে না। আর এই অধিকার নিশ্চিত করতেই তারা ১৩টি যৌক্তিক দাবি কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরেছেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, নবপ্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ও 'বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী' দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর ব্যবস্থা করা। একইসাথে বর্তমানে যারা শিক্ষকতা করছেন, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। ডিসিইউ-এর অধীনে ইতোমধ্যে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সমস্ত অ্যাকাডেমিক সুযোগ-সুবিধা ও ন্যায্য অধিকার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পরিচালিত গণস্বাক্ষর কর্মসূচির ফলাফল আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে। এর পাশাপাশি, ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বর্তমানে চলমান ব্যাচগুলোকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে একটি দৃশ্যমান ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।আধুনিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য ডিজিটাল লার্নিং রিসোর্স, ই-জার্নাল, ই-বুক এবং ডেটাবেসে নিরবচ্ছিন্ন ও সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়ভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলা এবং ইংরেজি—উভয় ভাষাতেই পাঠদান প্রক্রিয়া ও শিক্ষাউপকরণের ব্যবহার চালু রাখতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি বা গবেষণাগার স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া পরিবহন সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুযায়ী নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত বাস পরিষেবা চালু করার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, অবিলম্বে সাতটি ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটির জন্য অন্তত দুটি করে নতুন বাস বরাদ্দ করতে হবে।আবাসন ও গবেষণার বিষয়েও শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সোচ্চার। ঢাকার বাইরে থেকে আসা এবং আবাসনহীন শিক্ষার্থীদের জন্য অবিলম্বে নিরাপদ ও পর্যাপ্ত হলের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণায় অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল বা ফান্ডিং চালু করা আবশ্যক। সেশনজট নিরসনে একটি বাস্তবসম্মত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করতে হবে এবং তা কঠোরভাবে মেনে নির্ধারিত সময়ে ক্লাস, পরীক্ষা, ফলাফল প্রকাশসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মেধা মূল্যায়নের জন্য একটি কার্যকর ডুয়াল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করার পাশাপাশি পরীক্ষার সামগ্রিক কাঠামো আরও স্পষ্ট করার দাবিও উঠে এসেছে।আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাতটি ক্যাম্পাসে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী বিষয়াবলি পাঠ্যক্রমে সংযোজন করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের চূড়ান্ত ও অন্যতম প্রধান দাবিটি হলো, সাতটি ক্যাম্পাসের ভৌগোলিক দূরত্বকে বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে একটি আধুনিক টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) দ্রুত নির্মাণ করা। এই টিএসসিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রম এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজসহ যাবতীয় সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।সবশেষে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে ছড়ানো বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের কড়া জবাব দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, উপাচার্যের বক্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা ইতোমধ্যেই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং দেশের সচেতন শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা তাঁর বক্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ ঠিকই অনুধাবন করতে পেরেছেন। অনেক বিশিষ্টজন উপাচার্যের সাথে সংহতিও প্রকাশ করেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁর কোনো বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন না। বরং তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, উপাচার্য এবং তাদের প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্ত তারা মেনে নেবেন না এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ষড়যন্ত্র অত্যন্ত শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। শিক্ষার্থীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, একটি আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে তাদের এই ১৩ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি এবং কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

