ডিসিউ'র ভোটিংয়ে ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশন ইস্যুতে অনলাইন ভোটে ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ‘হ্যাঁ’। এই রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে।ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে একাডেমিক মাইগ্রেশনের প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের মতামত জানতে আয়োজিত অনলাইন ভোটাভুটিতে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে ‘হ্যাঁ’ ভোট। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ‘না’ ভোটের চেয়ে ১৭ হাজার ১২টি ভোট বেশি পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকা রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মূলত ২০২১-২২, ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। কর্তৃপক্ষের পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী গত ১৭ আগস্ট সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই অনলাইন ভোটাভুটি টানা তিন দিন ধরে চলে ১৯ আগস্ট রাত ১০টায় সমাপ্ত হয়। শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নির্দিষ্ট একাডেমিক প্রোগ্রামগুলোতে অন্তর্ভুক্ত বা মাইগ্রেশন করা হবে কি না, সেই বিষয়ে তাদের কাছ থেকে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ সূচক মতামত আহ্বান করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, শুরুতে ১৬ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি বা লিখিতভাবে মতামত গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে পরবর্তীতে গত ১২ আগস্ট এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হয়। মূলত শিক্ষার্থীদের শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, তাদের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতেই সরাসরি মতামতের বদলে আধুনিক অনলাইন ভোটিং সিস্টেম বেছে নেওয়া হয়। এই ভোটাভুটির পেছনের প্রেক্ষাপট বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘকাল ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা এই সাতটি কলেজকে একত্রিত করে একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ’ পাস হয়। এর মাধ্যমে সাত কলেজকে একটি নতুন ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর অধীনে আনার আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের এই বিপুল সাড়া এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের এই নিরঙ্কুশ বিজয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই আশ্বস্ত করেছে যে, শিক্ষার্থীদের এই রায়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঐতিহাসিক মতামতের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই রায় প্রমাণ করে যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিশাল একটি অংশ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে নিজেদের শিক্ষাজীবন স্থানান্তরের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।

