ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসছে কারা: যেকোনো মুহূর্তে নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা, আলোচনায় জিশান-আমানসহ হেভিওয়েটরা
ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন। যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণার সম্ভাবনা। আলোচনায় জিশান, আমানসহ হেভিওয়েট নেতারা।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন তুমুল জল্পনা-কল্পনা। দীর্ঘদিনের যাচাই-বাছাই ও চুলচেরা বিশ্লেষণের পর অবশেষে চূড়ান্ত রূপ পেতে যাচ্ছে বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত এই ছাত্র সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, সম্ভাব্য নেতাদের আমলনামা ও সাংগঠনিক দক্ষতা পর্যালোচনার কাজ একেবারেই শেষ পর্যায়ে। দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেলেই যেকোনো মুহূর্তে বাতাসে ভেসে আসতে পারে নতুন কমিটির বহুল প্রতীক্ষিত ঘোষণা। ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার রাতে। রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক আবেগঘন বিদায়ী সাক্ষাতে মিলিত হন ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির শীর্ষ পাঁচ নেতা। এই বিশেষ সাক্ষাতের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নতুন কমিটি গঠনের পালে নতুন করে হাওয়া লাগে। গুঞ্জন ওঠে, নেতৃত্বের রদবদল এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবার ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে প্রার্থীর অতীত ভূমিকা, সাংগঠনিক বিচক্ষণতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে মাপা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতের ওই বিশেষ বৈঠকের পর থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে হাইকমান্ডের মধ্যে কয়েক দফায় গভীর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা যায়। আগামী কমিটিতে কারা আসছেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে চলছে নানা সমীকরণ। যদি অপেক্ষাকৃত সিনিয়র নেতাদের হাতে সংগঠনের গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, তবে সভাপতি হিসেবে আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমানুল্লাহ আমানের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। অন্যদিকে, হাইকমান্ড যদি অপেক্ষাকৃত তরুণ ও জুনিয়রদের ওপর আস্থা রাখতে চায়, সে ক্ষেত্রে সভাপতি পদে আমানুল্লাহ আমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নাহিদুজ্জামান শিপনের নাম জোরেশোরে আলোচনায় রয়েছে। এই শীর্ষ পদগুলোর বাইরেও বেশ কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল ছাত্রনেতার নাম কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইজাজুল কবির রুয়েল, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, খোরশেদ আলম সোহেল, মমিনুল ইসলাম জিসান, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং আবিদুল ইসলাম খান। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি পদে আনোয়ার পারভেজের নামও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে শোনা যাচ্ছে। তবে এত সব জল্পনা-কল্পনার পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। এদিকে বিদায়ী সাক্ষাতের পর ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অত্যন্ত আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। নিজেদের দীর্ঘ ছাত্ররাজনীতির সোনালি অতীত স্মরণ করে সহযোদ্ধাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের এই বিদায়ী বার্তা নতুন নেতৃত্বের আগমনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছেন সারাদেশের লাখো তৃণমূল নেতাকর্মী।

