চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন বিএনপি নেতা শামীম।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নতুন পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রণালয়।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবার চট্টগ্রামের স্থানীয় প্রশাসনে বড় রদবদল ঘটল। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নতুন এবং পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। রবিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সরকারি ওই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী নতুন এবং নির্বাচিত পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকবেন। এই সময়ে তিনি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিজের সমস্ত প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এর ধারা ৮২ক (৩) অনুযায়ী একজন প্রশাসক যেসব আইনি ক্ষমতা ও এখতিয়ার ভোগ করেন, মাহবুবের রহমান শামীম তার সবকিছুই প্রয়োগ করতে পারবেন। পাশাপাশি সরকারি প্রচলিত বিধিবিধান ও নিয়মকানুন অনুযায়ী তিনি এই পদের জন্য নির্ধারিত সকল প্রকার আর্থিক ভাতা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে মাহবুবের রহমান শামীম অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চট্টগ্রামের রাজপথে এবং তৃণমূলের রাজনীতিতে তার অত্যন্ত সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নোয়াখালী-৬ বা হাতিয়া সংসদীয় আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। তবে ওই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করতে পারেননি। সেখানে বিজয়ের হাসি হেসেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও দলে এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে শামীমের রাজনৈতিক গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে সরকার তাকে জেলা পরিষদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তার এই নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তি চট্টগ্রামের স্থানীয় রাজনীতি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

