ধর্ষণের পর স্কুলছাত্রীকে ২০ টাকা ধরিয়ে দেন প্রধান শিক্ষক, গ্রেপ্তার ২
ভোলার বোরহানউদ্দিনে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু গ্রেপ্তার।ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় শিক্ষার পবিত্র অঙ্গনে ঘটেছে এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা। হাসান নগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক কোমলমতি ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। যিনি হবেন শিশুদের রক্ষক, তিনিই আজ ভক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। জানা গেছে, এই জঘন্য অপরাধ সংঘটনের পর বিষয়টি যাতে কেউ জানতে না পারে, সে জন্য ওই লম্পট শিক্ষক ভুক্তভোগী শিশুটির হাতে মাত্র ২০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে তাকে চুপ থাকার নির্দেশ দেন। তবে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার দাদির কাছে এই ভয়াবহ নির্যাতনের কথা খুলে বলে। এরপর আর কালক্ষেপণ না করে শিশুটির দাদি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই কঠোর অবস্থানে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত ওই প্রধান শিক্ষকের নাম মো. মহিউদ্দিন। ৫৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছেলামত মাঝির ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এদিকে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভুক্তভোগী শিশুর অসহায় পরিবারকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এবং মারধর করে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এই অপকর্মের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে মো. বাচ্চু নামের সাবেক এক ইউপি সদস্যকেও আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ। ৫০ বছর বয়সী বাচ্চু হাসান নগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, গত বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পৃথক পৃথক স্থানে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এই দুই অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিক্ষাঙ্গনের মতো পবিত্র জায়গায় এমন ঘৃণ্য অপরাধের ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। সাধারণ মানুষ অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

