১২ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ,হাতিয়ার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার।
হাতিয়ায় ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম প্রত্যাহার। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য, চলছে তদন্ত।রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জায়গাটি চরম হুমকির মুখে পড়ে। এমনই এক রোমহর্ষক ও ন্যক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায়। ১২ বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে খোদ একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত খোরশেদ আলম জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বা পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসার পরপরই তাকে দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নোয়াখালী জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ভুক্তভোগী ওই শিশুটির পরিবার আর্থিকভাবে অত্যন্ত অসচ্ছল। শিশুটির মা এবং ভাই দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নাবান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কাজের সুবাদে ওই শিশুটিরও তদন্ত কেন্দ্রে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। আর এই সুযোগটিকেই কাজে লাগান অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক। ভুক্তভোগী শিশু এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ কর্মকর্তা খোরশেদ আলমের কুনজর পড়ে শিশুটির ওপর। বিভিন্ন অজুহাতে তিনি শিশুটিকে তার ব্যক্তিগত বাসস্থানে ডেকে পাঠাতেন। এরপর চরম ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই অবুঝ শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতেন। শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি নানাভাবে কূটকৌশলের আশ্রয় নেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা যাতে শিশুটি কাউকে বলতে না পারে, সেজন্য তাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকিসহ নানাভাবে ভয় দেখানো হতো। কখনো কখনো অর্থের প্রলোভন দেখিয়েও তার মুখ বন্ধ রাখার অপচেষ্টা চালানো হয়। সমাজের প্রভাবশালী একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন হুমকির মুখে দরিদ্র পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। নিজেদের জীবনের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে তারা দীর্ঘদিন বাধ্য হয়ে এই অমানবিক নির্যাতনের বিষয়টি গোপন রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তারা মুখ খুলতে বাধ্য হন। শনিবার, ১৩ জুন রাতের দিকে পুরো বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, পুলিশের মতো একটি দায়িত্বশীল বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিযুক্ত খোরশেদ আলমকে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে আনা হয়েছে। বর্তমানে পুরো ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এদিকে, পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন জঘন্যতম অপরাধের অভিযোগ ওঠায় পুরো হাতিয়া ও এর আশপাশের অঞ্চলে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিবেশী হিমেলসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। তারা এই ঘটনার একটি স্বচ্ছ, দ্রুত ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।

