জোরারগন্জ থানা ফৌজদারী কার্যবিধি ১৫১ ধারায় ১০জন আসামী' দের কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পেরন।
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে গভীর রাতে সন্দেহজনক ঘোরাফেরার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় ১০ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের ১৫১ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় গভীর রাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় দশ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান এবং জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। জানা যায়, গত ৪ জুন গভীর রাত আনুমানিক ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে পুলিশের একটি টহল দল নৈশকালীন ডিউটি পালন করছিল। উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের এই বিশেষ আভিযানিক দলটি জোরারগঞ্জ থানাধীন ৬ নম্বর ইছাখালী এলাকার ইকোনমিক জোন সংলগ্ন সুপার টেক সড়কে টহলে ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং জনতা ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় মোট দশজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তারা হলেন নোয়াখালী জেলার চর জব্বর ও বসুরহাট থানা এবং লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এদের মধ্যে রয়েছেন নোয়াখালী সুবর্ণচরের আব্দুর রহমান (১৮), বসুরহাটের কবির আহম্মদ (৪২) ও তাঁর ছেলে মোঃ রাকিব (১৯), চর তোরাব আলীর মোঃ নুর আলম (৪৫), নূর হোসেন (২২) এবং মোঃ রিপন (২৪)। এছাড়াও রয়েছেন লক্ষ্মীপুরের নূর আলম (২৭) এবং নোয়াখালীর চর আলাউদ্দিন এলাকার শাকিল (২২), মোঃ নিজাম (২৬) ও মহব্বত (১৯)। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, আটকের পর জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের নিবিড় তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ডাকাতি, চুরি বা বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূলত গভীর রাতে অচেনা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যহীনভাবে চলাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সন্দেহবশত তাদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধের প্রমাণ তৎক্ষণাৎ মেলেনি, তাই পুলিশ আইন অনুযায়ী ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫১ ধারায় (সন্দেহজনক ঘোরাফেরা ও অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা) তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে তাদের এই নৈশকালীন টহল ও নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

