সংসদে জামায়াত এমপির বক্তব্যে তোলপাড়।
১৯৭১ সালে বাবা শহীদ হলেও ১৯৮১ সালে জন্ম জামায়াত এমপির! সংসদে দেওয়া তার এই অবাস্তব বক্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক।জাতীয় সংসদের পবিত্র ফ্লোরে দাঁড়িয়ে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সারা দেশে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে এমন এক অদ্ভুত দাবি করেছেন, যা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়। গত ১৬ জুন, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান এই সংসদ সদস্য। সেখানে তিনি নিজের পরিবারের বীরত্বপূর্ণ অবদান ও মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করেন। অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে দাবি করেন, তার বাবা এবং দাদা উভয়েই মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। শুধু তাই নয়, পারিবারিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, তার বাবা ও চাচারা ছিলেন সাত ভাই, যাদের মধ্যে চারজনই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার দাদার ১৯ জন ভাইয়ের মধ্যে ১১ জন সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে তাদের পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন এবং তার মা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম একজন সংগঠক। তার এই আবেগময়ী এবং বীরত্বগাঁথা বক্তব্য প্রাথমিকভাবে অনেকের মনোযোগ আকর্ষণ করলেও, পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধান এবং দাপ্তরিক নথিপত্র ঘাঁটতেই তার এই দাবির বিশাল এক অসংগতি ধরা পড়ে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার নিজের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের জন্মতারিখ হচ্ছে ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। এমনকি জনপ্রিয় তথ্যভাণ্ডার উইকিপিডিয়াতেও তার জন্মসাল হিসেবে ১৯৮১ সালকেই উল্লেখ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তার বয়স দেখানো হয়েছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। আর এখানেই জন্ম নিয়েছে সবচেয়ে বড় এবং যৌক্তিক প্রশ্নটি। মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে। সেই যুদ্ধে যদি তার বাবা শহীদ হয়েই থাকেন, তবে মৃত্যুর ঠিক দশ বছর পর, অর্থাৎ ১৯৮১ সালে তার ছেলের জন্ম কীভাবে সম্ভব? বিজ্ঞানের সাধারণ সূত্র থেকে শুরু করে বাস্তবতার কোনো মানদণ্ডেই এই হিসাব মেলানো সম্ভব নয়। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে জাতীয় সংসদের মতো সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন অতিরঞ্জিত এবং ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করায় সচেতন মহল চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র আবেগকে ব্যবহার করতেই তিনি এমন মনগড়া গল্প ফেঁদেছেন। এই অবিশ্বাস্য দাবির পর এমপি আব্দুল মুনতাকিমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি তাকে এই অবাস্তব হিসাবের একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে বলেও দাবি করছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

