ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার, স্বামী পলাতক।
বগুড়ার নিশিন্দারায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবাসহ এক নারী কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিএনসি। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার স্বামী পালিয়েছে।মাদকের বিষাক্ত ছোবল থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে দেশজুড়ে চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযান। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা বগুড়ায় মাদকবিরোধী এক বিরাট সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা ডিএনসি। এই ঝটিকা অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানসহ পুলিশের জালে ধরা পড়েছে এক শীর্ষ নারী মাদক কারবারি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকায়। চলুন জেনে নিই এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য। গত রবিবার, ৭ জুন, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিশিন্দারা মন্ডলপাড়া এলাকায় একটি দুঃসাহসিক অভিযান চালায় ডিএনসি’র বিশেষ টাস্কফোর্স। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, ওই এলাকার একটি বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের রমরমা আসর ও কেনাবেচা চলত। এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই নারী কারবারির নিজস্ব চার কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা বাড়িতে হঠাৎ করেই তল্লাশি শুরু করেন অধিদপ্তরের চৌকস কর্মকর্তারা। ঘরের আনাচে-কানাচে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে ৪০ পিস প্রাণঘাতী ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় হাতেনাতে গ্রেফতার হন মোছাঃ ছালেহা আক্তার নামের ৪০ বছর বয়সী ওই গৃহবধূ। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় তার স্বামী ও এই মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা মোঃ আব্দুস সোবাহান। স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেফতারকৃত ছালেহা আক্তার ও তার পলাতক স্বামী আব্দুস সোবাহান মিলে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ইয়াবার এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। তারা মূলত স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ের আড়ালে তরুণ প্রজন্মের হাতে তুলে দিচ্ছিল ধ্বংসের এই উপাদান। বর্তমানে ছালেহা আক্তারকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার প্রকৃত উৎস কোথায়, কারা এই মাদকের জোগানদাতা এবং তাদের নিয়মিত ক্রেতা কারা—এই সবকিছু উদঘাটনের জন্য কাজ করছে তদন্তকারী দল। অপরদিকে, পলাতক ৪৫ বছর বয়সী আব্দুস সোবাহানকে যেকোনো মূল্যে গ্রেফতার করতে সম্ভাব্য সকল স্থানে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে, এই ঘটনার পরপরই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ সামসুল আলম বাদী হয়ে বগুড়া সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেছেন। দায়েরকৃত এই নিয়মিত মামলায় গ্রেফতারকৃত ছালেহা আক্তারকে এক নম্বর আসামি এবং তার পলাতক স্বামী আব্দুস সোবাহানকে দুই নম্বর আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু এই দম্পতিই নয়, এর নেপথ্যে আরও বড় কোনো রাঘববোয়াল বা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র জড়িত থাকতে পারে। যদি তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ মেলে, তবে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ডিএনসি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়া শহর ও এর আশেপাশের উপজেলাগুলোতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ যেকোনো ধরণের নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিস্তার রোধে প্রতিনিয়ত অভিযান চলছে। সমাজকে এই মরণনেশার হাত থেকে রক্ষা করতে মাদক ব্যবসায়ী, গডফাদার, পরিবহনকারী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ধরে রাখতে হলে এই ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি পরিবার এবং সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। দর্শক, এই ছিল বগুড়া থেকে আমাদের হাতে পাওয়া সর্বশেষ সংবাদ। দেশের আইনশৃঙ্খলার এমন আরও আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

