স্বামীর সংসার অপছন্দ, চুল কেটে পুরুষের ছদ্মবেশে নববধূ বৃষ্টি।
স্বামীকে পছন্দ না হওয়ায় চুল কেটে ছেলে সেজে পালিয়েছিল চট্টগ্রামের নববধূ বৃষ্টি। অবশেষে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ধরা পড়েন তিনি।চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ও অবিশ্বাস্য ঘটনা, যা হার মানায় রূপালী পর্দার সিনেমার গল্পকেও। সদ্য বিবাহিতা এক তরুণী, নাম বৃষ্টি, শুধুমাত্র স্বামীকে পছন্দ না হওয়ায় বেছে নিলেন এক অভাবনীয় পথ। বিয়ের পর স্বামীর সংসার করবেন না বলে দীর্ঘ দিনের সাধের লম্বা চুল কেটে সম্পূর্ণ পুরুষের বেশ ধারণ করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান এই নববধূ। জানা যায়, হাটহাজারী উপজেলার এক সরকারি চাকরিজীবীর সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন বৃষ্টি। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সাথে তার বনিবনা হচ্ছিল না। কোনোভাবেই এই বিয়ে ও স্বামীকে মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। একপর্যায়ে স্বামীর ঘর ছাড়ার চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বৃষ্টি। তবে পালানোর কৌশল হিসেবে তিনি যা করেছেন, তা রীতিমতো সবাইকে হতবাক করেছে। নিজের লম্বা চুল ছোট করে কেটে ছেলেদের মতো শার্ট ও প্যান্ট পরেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার এই ছদ্মবেশ এতটাই নিখুঁত ছিল যে, এই বেশে তিনি তার নিজের স্বামীর চোখের সামনে দিয়ে ঘোরাফেরা করলেও স্বামী তাকে বিন্দুমাত্র চিনতে পারেননি। তবে এই নিখুঁত অভিনয়ের শেষটা মধুর হয়নি। ছেলে সেজে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথেই। কিন্তু খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়িতে গেলে তার চলাফেরা ও আচরণ স্থানীয়দের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। পরবর্তীতে সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে তাকে আটক করা হয়। এরপর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি কোনো ছেলে নন, বরং স্বামীর সংসার থেকে পালিয়ে আসা এক সদ্য বিবাহিতা তরুণী। বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

