চীনের আনহুই প্রদেশে যুগান্তকারী কৃষি পদ্ধতি:
চীনের আনহুই প্রদেশে পরিবেশবান্ধব 'ধান-কাঁকড়া আবর্তন' পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লবের বিস্তারিত প্রতিবেদন।চীনের আনহুই প্রদেশের উহু শহরের অন্তর্গত ফানচাং জেলার একদল উদ্যোমী কৃষকের নিরলস পরিশ্রম আর উদ্ভাবনী চিন্তাধারা আধুনিক কৃষিব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের কৃষি খামারিরা তাদের প্রদর্শনী খামারগুলোতে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের প্রধান কাজ হলো জলাশয়ে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে কাঁকড়া বা ক্রফিশ ধরার জন্য বিশেষ ধরনের খাঁচা স্থাপন করা। এই ব্যস্ততা শুধু তাদের দৈনন্দিন কাজের অংশই নয়, বরং এটি একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে। চীনের এই প্রান্তিক কৃষকদের অদম্য পরিশ্রম মূলত একটি চিরন্তন সত্যকেই আমাদের সামনে নতুন করে উপস্থাপন করে, আর তা হলো। কৃষিখাতের যুগান্তকারী উন্নয়ন ব্যতীত কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের উন্নত ও আধুনিক জীবনযাপনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। এই দর্শনকে সামনে রেখেই ফানচাং জেলার কৃষকরা আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব 'ধান-কাঁকড়া আবর্তন' বা 'রাইস-ক্রফিশ রোটেশন' নামক একটি যুগান্তকারী কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। এই অভিনব পদ্ধতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সম্পদের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে খামারিরা পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের পাশাপাশি একই আবাদি জমি থেকে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ধান এবং অন্য সময়ে কাঁকড়া উৎপাদন করে দ্বিগুণ ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হচ্ছেন। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে সম্পূর্ণ ইকো-ফ্রেন্ডলি বা পরিবেশবান্ধব এই কৃষি পদ্ধতি ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এটি একদিকে যেমন কৃষকদের ব্যক্তিগত আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে, ঠিক তেমনি অন্যদিকে সমগ্র গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন ও শক্তিশালী প্রাণের সঞ্চার করেছে। আগামী দিনে এই ধরনের টেকসই ও উদ্ভাবনী কৃষি পদ্ধতি বিশ্বের অন্যান্য দেশের কৃষকদের জন্যও এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

