৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট স্মরণে ফিল্ম আর্কাইভে সেমিনার ও প্রদর্শনী
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের পটভূমি স্মরণে রাজধানীর ফিল্ম আর্কাইভে সেমিনার ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।![]() |
| ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত |
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের পটভূমি ও তাৎপর্য স্মরণে এক বিশেষ সেমিনার ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও সমসাময়িক রাজনৈতিক গুরুত্বের ওপর বিশদ আলোকপাত করেন।
বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের সভাপতি বড়ুয়া মনোজিত ধীমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই তাৎপর্যপূর্ণ সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জাসাসের বর্তমান আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হেলাল খান।
প্রধান বক্তা রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি যুগান্তকারী মোড় এনে দিয়েছিল। সেদিন এ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং আধিপত্যবাদ রুখতে দেশপ্রেমিক সিপাহী ও আপামর জনতা রাজপথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেমে এসেছিল। এই ঐতিহাসিক সংহতি জাতিকে নতুন দিশা দেখায় এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত করে। তিনি জাতীয় ইতিহাসকে চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাসাস আহ্বায়ক হেলাল খান বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মূল প্রেরণা ছিল দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করা। ইতিহাসের সঠিক তথ্য উপস্থাপনে চলচ্চিত্র মাধ্যম অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে এবং এ বিষয়ে চলচ্চিত্র সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সায়মন তারিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জীবন শাহাদাৎ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, গোমতী ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি নজরুল ইসলাম, পিংকএশিয়া ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র কল্যাণ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ওমর মালিক, চালিউড ফিল্ম সোসাইটির সহ-সভাপতি মিষ্টি মাতব্বর এবং রাজবাড়ী ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান মনিরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের চলচ্চিত্র সংসদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভার পাশাপাশি দিবসটির প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত ঐতিহাসিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের সার্বিক সহযোগিতায় ঢাকা ফিল্ম ক্লাব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র কল্যাণ সোসাইটি এবং বেঙ্গল ফিল্ম সোসাইটির যৌথ ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর বিভিন্ন প্রকাশ্য পয়েন্টে ৭ নভেম্বরের ওপর নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এ আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে চ্যানেল এস।

