আত্মবিশ্বাসে মডেলিং জগতে নিজের স্বপ্ন জয়ের পথে তরুণ মডেল মেহেদী হাসান
রংপুর থেকে ঢাকার র্যাম্প শো-তে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন মডেল মেহেদী হাসান। পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে সাফল্যের গল্প শুনুন এই তরুণ মডেলের মুখে।![]() |
| স্বপ্ন জয়ের পথে তরুণ মডেল মেহেদী |
রংপুরের শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, শৈশব ও কৈশোরের সোনালী দিন কাটানো আর শিক্ষার হাতেখড়ি_সবকিছুই সেই চেনা শহরে। তবে সেই চেনা গণ্ডির ভেতরেই মো. মেহেদী হাসানের চোখে বাসা বেঁধেছিল এক অন্যরকম স্বপ্ন; নিজেকে একদিন বড় ক্যানভাসে গ্ল্যামার ও মডেলিং জগতের একজন দক্ষ মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার।
রংপুরে প্রতিভা ও ইচ্ছার অভাব না থাকলেও লাইমলাইটের কেন্দ্রবিন্দু বা মডেলিংয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছিল সীমিত। কিন্তু স্বপ্নের পেছনে ছুটতে যার ব্যাকুলতা থাকে, বাধা সেখানে কখনোই স্থায়ী হতে পারে না। নিজের একক প্রচেষ্টা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে মেহেদী নিজেকে তৈরি করার কঠিন পথটি বেছে নেন। ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের বিভিন্ন ভিডিও এবং টিউটোরিয়াল দেখে নিয়মিত ক্যাটওয়াক ও কায়দা-কানুন চর্চা করতে থাকেন তিনি।
ভাগ্য ও পরিশ্রমের মেলবন্ধনে মেহেদী হাসানের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয় একটি করপোরেট চাকরির সুবাদে ঢাকায় আসার মাধ্যমে। রাজধানী ঢাকায় পা রাখার পরই তিনি নিজের সুপ্ত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগটি লুফে নেন। দেশের মডেলিং জগতের প্রখ্যাত কোরিওগ্রাফার আজরা মাহমুদের পরিচালিত 'আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প' (AMTC)-এ রেজিস্ট্রেশন করেন তিনি। এরপর অডিশন ও ইন্টারভিউয়ের ধাপ পেরিয়ে সেখানে ভর্তির সুযোগ পান, যা তাঁর ক্যারিয়ারে এক নতুন দ্বারের উন্মোচন করে।
আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্পে ভর্তি হওয়ার পর দেশের খ্যাতিমান সব আর্টিস্ট ও মেন্টরদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ ঘটে মেহেদীর। সেখান থেকে প্রফেশনাল ক্যাটওয়াক, মার্জিত ও স্মার্ট প্রেজেন্টেশন এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে নিজের সর্বোচ্চ কনফিডেন্স ধরে রেখে কাজ ফুটিয়ে তোলার কলাকৌশল নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করেন তিনি।
সাধারণত পুরুষ মডেলদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কিংবা জাতীয় র্যাম্পে উচ্চতার একটা বাঁধাধরা নিয়ম থাকে। মেহেদী হাসানের উচ্চতা ৫ ফিট ৮ ইঞ্চি, যা সাধারণত র্যাম্পের ক্ষেত্রে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। তবে নিজের উচ্চতা নিয়ে হীনমন্যতায় না ভুগে কিংবা কোনো অজুহাত না দাঁড় করিয়ে, তিনি মনোযোগ দিয়েছেন তাঁর স্কিল ও ক্যাটওয়াকের মান বৃদ্ধিতে। তিনি বিশ্বাস করেন_শারীরিক কাঠামোর চেয়েও স্টেজে কাজের ধরণ, কনফিডেন্স এবং নিখুঁত ক্যাটওয়াকই পারে দর্শক ও বিচারকদের নজর কাড়তে।
বর্তমানে মেহেদী হাসান বেশ কিছু জনপ্রিয় অনলাইন ব্র্যান্ডের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি একটি বিখ্যাত ব্র্যান্ডের 'ব্র্যান্ড প্রমোটার' হিসেবেও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য _ টেলিভিশন কমার্শিয়াল (টিভিসি), অনলাইন ভিডিও কমার্শিয়াল (ওভিসি) এবং নামীদামী সব ফ্যাশন শো-এর র্যাম্পে নিজেকে নিয়মিত ও শক্ত অবস্থানে তুলে ধরা।
শুধু মডেলিংয়ের র্যাম্পেই থেমে থাকতে চান না তিনি; ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে নাটক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে (শর্ট ফিল্ম) নিজের অভিনয় দক্ষতারও ছাপ রাখতে চান এই তরুণ। রংপুর থেকে শুরু হওয়া এক সাধারণ তরুণের এই আত্মবিশ্বাসী যাত্রা আজ অনেক নতুন স্বপ্নের অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

