চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে দুর্ধর্ষ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, বিপুল দেশীয় অস্ত্র ও মুখোশ উদ্ধার
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে বিশেষ অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও মুখোশসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পলাতকদের খুঁজছে প্রশাসন।![]() |
| জোরারগঞ্জে নয়টিলা মাজার এলাকা থেকে ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, দেশীয় অস্ত্র ও মুখোশ উদ্ধার। |
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলাধীন জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় এক দুঃসাহসিক ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতদের হেফাজত থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং বেশ কয়েকটি কালো মুখোশ জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে চারটি ধারালো ছোরা, একটি বড় আকারের রামদা এবং সাতটি কালো মুখোশ। গ্রেপ্তারকৃত তিন ডাকাত সদস্য হলো চট্টগ্রামের ভূজপুর থানার বাগান বাজার ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী মোঃ আনোয়ার হোসেন, ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের রাজনগর এলাকার ৩০ বছর বয়সী বেলায়েত হোসেন এবং জোরারগঞ্জ থানার করেরহাট ইউনিয়নের গেড়ামারা এলাকার বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী মোঃ আলাউদ্দিন প্রকাশ মামুন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বেশ কিছুদিন ধরে জোরারগঞ্জ থানাধীন বারইয়ারহাট থেকে খাগড়াছড়িগামী আঞ্চলিক মহাসড়কের নয়াটিলা এবং কয়লা বাজারের মধ্যবর্তী নির্জন এলাকায় রাতে ডাকাতির মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের ক্রমাগত দৌরাত্ম্যের কারণে ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল। সাধারণ মানুষের এই ভীতি দূর করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম-এর কঠোর নির্দেশনায় এবং জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। সন্ধ্যা নামার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত এই আঞ্চলিক মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে নিয়মিত বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই এক পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সোয়া আটটার দিকে জোরারগঞ্জ থানার চৌকস উপ-পরিদর্শক মোঃ আকরামুল হক তার সঙ্গী ফোর্স নিয়ে ওই এলাকায় রাত্রিকালীন টহল দিচ্ছিলেন। টহলরত অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং নিজস্ব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে, করেরহাট ইউনিয়নের গেড়ামারা এলাকার নয়াটিলা মাজারের ১০০ গজ পূর্ব দিকে বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের উত্তর পাশের ঘন জঙ্গলে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান নিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ওই এলাকাটি ঘেরাও করে ফেলে। এ সময় পুলিশ দেখতে পায় যে, ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল কালো মুখোশ পরিহিত অবস্থায় ডাকাতির চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। পুলিশের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে ডাকাত দলটি দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে পুলিশের ক্ষিপ্রতায় ঘটনাস্থল থেকেই তিন দুর্ধর্ষ ডাকাতকে হাতেনাতে পাকড়াও করা সম্ভব হয়। রাতের অন্ধকারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের অন্যান্য সদস্যরা গভীর জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের শরীর ও আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রশস্ত্র এবং মুখোশগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামিরা অকপটে স্বীকার করে যে, তারা মূলত বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও প্রাইভেটকার থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অশুভ পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে সমবেত হয়েছিল। পুলিশের বিশদ তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্যতম মূল হোতা মোঃ আলাউদ্দিন ওরফে মামুনের অপরাধের রেকর্ড অত্যন্ত দীর্ঘ। জোরারগঞ্জ থানাতেই তার বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামী থানাতেও এই দাগী আসামির বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার একটি গুরুতর মামলা রয়েছে। বর্তমানে তাদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক অন্য ডাকাতদের পরিচয় শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের ধারাবাহিক ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

