চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান: ৫ মাদকসেবীর কারাদণ্ড, গ্রেপ্তার আরও এক আসামি
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনের কারাদণ্ড ও এক পলাতক আসামি গ্রেপ্তার। বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।![]() |
| জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ৫ জন মাদক সেবনকারী, ১জন আসামীসহ মোট ৬ জন আসামী গ্রেফতার। |
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় মাদকের ভয়াল থাবা নির্মূলে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। রেঞ্জ ডিআইজি, চট্টগ্রাম মহোদয়ের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় এবং জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিমের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানটি পরিচালিত হয়। জানা যায়, সম্প্রতি পরিচালিত এই অভিযানে মিরসরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষার এই মহতী উদ্যোগে প্রশাসনের এমন যুগপৎ অবস্থান স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে ৫ জন মাদকসেবীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটককৃত ওই ৫ মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে, বিশেষ করে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের নিয়মিত অপরাধ দমন অভিযানের অংশ হিসেবে এসআই (নিরস্ত্র) মতিউর রহমান তার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে একই রাতে আরও একটি সফল অভিযান পরিচালনা করেন। রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন ৪ নম্বর ধুম ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত নাহেরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিনের পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ওই আসামির নাম মো. ফিরোজ খান (৩০)। তিনি ওই এলাকার মধ্যম নাহেরপুর গ্রামের নুর মিয়াজী বাড়ির মৃত আবু তাহের মেম্বার ও হোসনে আরা মেম্বারের সন্তান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মো. ফিরোজ খান গত ১৮ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে দায়েরকৃত জোরারগঞ্জ থানার একটি মামলার এজাহারভুক্ত তদন্তেপ্রাপ্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সুনির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে পুলিশের বিশেষ অভিযানে তিনি ধরা পড়েন। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী এই সাঁড়াশি অভিযান এবং ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তাদের যথাযথ পুলিশ পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে অপরাধ দমনে পুলিশের এমন তৎপরতা সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

