দীর্ঘ পথচলা শেষে সমাপ্ত হলো সানজিদা তাসনীম অভিনীত জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিক ‘রূপনগর’
দীপ্ত টিভির ‘স্টার হান্ট’ থেকে উঠে আসা সানজিদা তাসনীমের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘রূপনগর’ ৩১১ পর্বে এসে শেষ হলো। বিদায়বেলায় আবেগাপ্লুত অভিনেত্রী।![]() |
| দীর্ঘ পথচলার পর শেষ হলো সানজিদার অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘রূপনগর’ |
টেলিভিশন নাটকের রঙিন দুনিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা জনপ্রিয় ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নাম 'রূপনগর'। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময়ের সফল সম্প্রচার এবং ৩১১টি পর্বের এক অভাবনীয় যাত্রার পর অবশেষে এই ধারাবাহিকটির পর্দা নেমেছে। এই নাটকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিনোদন জগতে নিজের একটি স্বতন্ত্র ও শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়েছেন প্রতিশ্রুতিশীল ও গুণী তরুণ অভিনেত্রী সানজিদা তাসনীম। দীপ্ত টেলিভিশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো 'স্টার হান্ট'-এর ঝলমলে মঞ্চ থেকে উঠে আসা এই মেধাবী তারকা সেই প্রতিযোগিতায় সেকেন্ড রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। সেই ঈর্ষণীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বিজয়ীদের জন্য একটি খণ্ড নাটক এবং একটি দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ের সুবর্ণ সুযোগ প্রদান করা হয়। সেই প্রতিশ্রুতিরই সফল ও বর্ণিল বাস্তবায়ন ছিল স্বনামধন্য নির্মাতা কায়েসার আহমেদ পরিচালিত 'রূপনগর' ধারাবাহিকটি। এই নাটকে সানজিদার বিপরীতে অনবদ্য জুঁটি বেঁধেছিলেন দর্শকপ্রিয় অভিনেতা শিবলী নোমান, যিনি এর আগে দীপ্ত টিভির আরেক জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'মান অভিমান'-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। সানজিদার জন্য 'রূপনগর'-এর এই সুদীর্ঘ যাত্রা কেবল পেশাগত দায়বদ্ধতা বা রুটিন কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি তার ব্যক্তিগত ও অভিনয় জীবনের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি শিক্ষণীয় অধ্যায় হিসেবে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছে। বিদায়বেলায় আবেগাপ্লুত হয়ে সানজিদা সংবাদমাধ্যমকে জানান, নাটকের চমৎকার গল্পে তারা মূলত তিন ভাই-বোন ও তাদের মমতাময়ী মাকে নিয়ে গড়ে ওঠা একটি সুন্দর পরিবারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যেখানে বড় ভাইয়ের গুরুগম্ভীর অথচ স্নেহশীল ভূমিকায় ছিলেন দাপুটে অভিনেতা শ্যামল মাওলা এবং বড় বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী আনিকা কবির শখ। ক্যামেরার সামনের সেই সাজানো পরিবারটি দীর্ঘদিনের নিবিড় কাজের সুবাদে পর্দার বাইরেও বাস্তবে যেন একটি নিখাদ ও পরম আত্মীয়ের রূপ ধারণ করেছিল। সানজিদা অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন যে, তিনি শ্যামল মাওলার মতো একজন গুণী ও অভিজ্ঞ শিল্পীর কাছ থেকে অভিনয়ের বহু সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ দিক আয়ত্ত করার সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে আনিকা কবির শখকে তিনি পেয়েছেন একজন পরম মমতাময়ী বড় বোন হিসেবে, যিনি শুটিংয়ের পুরোটা সময় জুড়ে তাকে সাহস জুগিয়েছেন এবং মানসিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন। শুধু সহশিল্পীরাই নন, গুণী নির্মাতা কায়েসার আহমেদ সানজিদার কাছে শুধু একজন নির্দেশক বা পরিচালকই ছিলেন না, বরং তিনি একনিষ্ঠ অভিভাবক ও প্রকৃত শিক্ষকের মতো তাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি নাটকের সহকারি পরিচালক জীবন দাকেও তিনি নিজের পরিবারের একজন অবিচ্ছেদ্য সদস্যের মতোই আপন করে পেয়েছিলেন, যিনি প্রতিটি পদক্ষেপে এই তরুণ অভিনেত্রীকে সহযোগিতা করেছেন। সানজিদা আরও জানান, যেহেতু তিনি সেসময় একজন কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ছিলেন, তাই সেটের ভেতরে নিজের অনেক সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গেও কাজ করার এক বিরল সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন। শুটিংয়ের অবসরে তাদের আড্ডা, হাসি, ঠাট্টা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সারাক্ষণ মুখর থাকতো নাটকের সেট। এই প্রতিটি মুহূর্ত তার জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে। দীপ্ত টিভির হাত ধরেই শোবিজ অঙ্গনে তার জন্ম ও পথচলা শুরু হওয়ায়, এই চ্যানেলটি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মানুষের প্রতি তার রয়েছে অন্যরকম এক গভীর আবেগ ও অকৃত্রিম ভালোবাসা। 'রূপনগর'-এর সমাপ্তি তাকে এই ভেবে কিছুটা নস্টালজিক করে তুলেছে যে, তিনি যেন তার প্রিয় প্রাঙ্গণের সেই নিরাপদ ছায়াতল থেকে ধীরে ধীরে এক নতুন পৃথিবীর দিকে পা বাড়াচ্ছেন। সামনের দিনগুলোতে অভিনয়ের এই নতুন যাত্রা কতটা মসৃণ বা কতটা কণ্টকাকীর্ণ হবে, তা নিয়ে মনে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও দীপ্ত টিভি এবং 'রূপনগর' টিমের সঙ্গে কাটানো সেই সোনালী দিনগুলো সানজিদার ক্যারিয়ারের এক অমূল্য রত্ন হয়ে থাকবে। সহশিল্পী, কলাকুশলী এবং অগণিত দর্শকদের সীমাহীন ভালোবাসায় সিক্ত সানজিদা তার এই আগামী যাত্রায় সকলের কাছে দোয়া, আশীর্বাদ ও অব্যাহত সমর্থন কামনা করেছেন।

