জোরারগঞ্জ-আবুরহাট সড়কে নিম্নমানের কংক্রিট অপসারণ,চট্টগ্রাম-১ সংসদ নুরুল আমিনের নির্দেশে পুনরায় কাজ শুরু।
মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ-আবুরহাট সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ। এমপির কঠোর হস্তক্ষেপে তা অপসারণ করে পুনরায় মানসম্মত কাজ শুরু।উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়ম কিংবা গাফিলতির ঘটনা নতুন নয়, তবে জনপ্রতিনিধির তাৎক্ষণিক ও কঠোর হস্তক্ষেপে তা রুখে দেওয়ার এক অনন্য নজির স্থাপিত হলো মিরসরাইয়ে। উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ জোরারগঞ্জ-আবুরহাট সড়কের সংস্কারকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কংক্রিট ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্যের সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপে সেই অনিয়মের ছক ভেস্তে গেছে। শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের সব সামগ্রী সরিয়ে মানসম্মত উপায়ে পুনরায় কাজ শুরু করতে বাধ্য করা হয়েছে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার তদারকি কর্মকর্তাদের ছুটির বা অনুপস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগায় সংস্কারকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। তারা অত্যন্ত সুকৌশলে সড়কে ব্যবহারের জন্য অতি নিম্নমানের কংক্রিট ও ইট-বালু নিয়ে আসে এবং তড়িঘড়ি করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি এলাকার সচেতন নাগরিকদের নজরে আসলে তারা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংস্কারকাজ বন্ধ করে দেন। সাধারণ মানুষের এই প্রতিবাদের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ঘটনাটি মিরসরাইয়ের স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন এমপির কানে পৌঁছালে তিনি এক মুহূর্তও কালবিলম্ব করেননি। জনগণের দেওয়া জনপ্রতিনিধিত্বের চরম দায়িত্ববোধ থেকে তিনি সরাসরি ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেখানে পৌঁছে তিনি নিজে সরেজমিন পুরো সড়কটির সংস্কারকাজ ও ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করেন। কংক্রিট ও অন্যান্য সামগ্রীর অত্যন্ত নিম্নমান দেখে তিনি চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সেখানে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের তীব্র ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি তিনি একটি কঠোর নির্দেশ জারি করেন। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দেন, অবিলম্বে এসব নিম্নমানের সামগ্রী সড়ক থেকে সম্পূর্ণ অপসারণ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কাজের গুণগত মান শতভাগ বজায় রেখেই তবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে; অন্যথায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংসদ সদস্যের এমন রুদ্রমূর্তি ও আপসহীন নির্দেশনার পর টনক নড়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। তারা বাধ্য হয়ে রাতেই সড়কে স্তূপ করে রাখা সমস্ত নিম্নমানের কংক্রিট ও অন্যান্য সামগ্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরিয়ে নেয়। এরপর নতুন করে সম্পূর্ণ উন্নত ও ভালো মানের কংক্রিট এনে পুনরায় সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়। বর্তমানে সঠিক নিয়ম ও মান বজায় রেখেই কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানা গেছে। সংসদ সদস্যের এই যুগোপযোগী, সাহসী ও জনবান্ধব পদক্ষেপে মিরসরাইয়ের সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও সন্তোষ বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি এমন সজাগ দৃষ্টি রাখেন, তবে তৃণমূল পর্যায়ে কোনো দুর্নীতিই টিকতে পারবে না। স্থানীয়রা এখন জোর দাবি তুলেছেন, জোরারগঞ্জ থেকে আবুরহাট পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কারকাজ যেন শেষ দিন পর্যন্ত শতভাগ স্বচ্ছতা ও সর্বোচ্চ গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হয়।

