৩ বাস থাকলেও মেলে না সুবিধা: সরকারি বাঙলা কলেজে পরিবহন সংকটে শিক্ষার্থীদের চরম ক্ষোভ
সরকারি বাঙলা কলেজে ৩টি বাস থাকলেও মাঠকর্মে তা পাননি শিক্ষার্থীরা। নিজেদের খরচে বাস ভাড়ায় চরম ক্ষোভ, প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।![]() | ||
| তিন বাস থেকেও পাওয়া যায় না পরিবহন সেবা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা | সাব: সরকারি বাঙলা কলেজ |
রাজধানীর অন্যতম সুপরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি বাঙলা কলেজ। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজের সুবিধার্থে এই কলেজে বরাদ্দ রয়েছে তিনটি নিজস্ব বাস। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, চরম প্রয়োজনে এই বাসগুলোর কোনো সুবিধাই পান না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত বাধ্যতামূলক মাঠকর্মে যাওয়ার জন্য বাসের আবেদন করেও তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কলেজটির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বাসের জ্বালানি থেকে শুরু করে স্টাফদের যাবতীয় খরচ বহনের প্রস্তাব দেওয়ার পরও মেলেনি পরিবহন সুবিধা। ফলে বাধ্য হয়েই নিজেদের পকেটের টাকায় বাস ভাড়া করে মাঠকর্ম সম্পন্ন করতে হয়েছে তাদের। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের GELb: 3011 কোর্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাঠকর্ম অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জামদানি পল্লিতে স্থানীয় তাঁতিদের আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর জরিপ পরিচালনা করাই ছিল এই মাঠকর্মের মূল উদ্দেশ্য। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, এই একাডেমিক কাজের জন্য নিয়ম অনুযায়ী কলেজ প্রশাসনের কাছে বাস চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছিল। এমনকি তারা বাসের জ্বালানি খরচ এবং চালক ও সহকারীদের আনুষঙ্গিক ব্যয়ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়ারও লিখিত প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এত কিছুর পরও তাদের পরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ফয়সাল আহমেদ পুরো ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, প্রথমে তাদের মাঠকর্মের গন্তব্য ছিল মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে। সেখানে হাজারি গুড় তৈরির প্রক্রিয়া এবং গাছিদের জীবনমান নিয়ে গবেষণার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয় যে, রাজধানীর বাইরে কোনোভাবেই কলেজের বাস পাঠানো সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষের এই নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শিক্ষার্থীরা তাদের গন্তব্য পরিবর্তন করে ঢাকার ভেতরে ডেমরার জামদানি পল্লি নির্ধারণ করেন। তবুও শেষ পর্যন্ত তাদের বাস দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে চড়া দামে বেসরকারি বাস ভাড়া করে তাদের এই শিক্ষা সফর সম্পন্ন করতে হয়েছে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মো. রেদোয়ান হোসেন ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এবং তাদের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্যই কলেজের বাস। কিন্তু বারবার যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করার পরও যদি সেই বাস পাওয়া না যায়, তবে এই পরিবহনগুলোর আসলে কার্যকারিতা কী? তার এই পোস্টে সমর্থন জানিয়ে আরও অনেক শিক্ষার্থী প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য জানতে চাইলে এক অদ্ভুত নীরবতা লক্ষ্য করা যায়। শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল আরেফীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে বা তথ্য দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে, কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিটুল চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিশেষ অনুমতি ছাড়া আমরা শহরের বাইরে কলেজের বাস দিতে পারি না। যদিও শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের সংশোধিত গন্তব্য ডেমরা শহরের ভেতরেই ছিল, তবুও কেন বাস দেওয়া হলো না, তার কোনো সদুত্তর মেলেনি। সব মিলিয়ে তিনটি বাস ক্যাম্পাসে অলস পড়ে থাকার পরও একাডেমিক কাজে তা ব্যবহার করতে না পারায় কলেজ প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং বাস বরাদ্দের নীতিমালা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নবোধক চিহ্নের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জোর দাবি, অনতিবিলম্বে বাস বরাদ্দের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সিলেবাসভুক্ত বাধ্যতামূলক মাঠকর্মের মতো জরুরি ও গবেষণাধর্মী কাজে যেন শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরিবহন সুবিধা পান, প্রশাসনকে তার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

