মিরসরাইয়ে শ্বাসরুদ্ধকর পুলিশি অভিযান: মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত যুবক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫
মিরসরাইয়ে পাওনা টাকার জেরে যুবককে অপহরণের পর এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি। পুলিশের দুঃসাহসিক অভিযানে অক্ষত অবস্থায় ভিকটিম উদ্ধার ও ৫ জন গ্রেফতার।![]() |
| মিরসরাইয়ে পাওনা টাকার জেরে যুবককে অপহরণের পর এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি। |
চট্রগ্রাম মিরসরাইয়ে পাওনা টাকার জের ধরে এক চাঞ্চল্যকর অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর ও দুঃসাহসিক অভিযানে অপহৃত যুবককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গত ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে আর্থিক লেনদেন ও দেনা-পাওনাকে কেন্দ্র করে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। ভিকটিম ২৭ বছর বয়সী যুবক মোঃ মহসিনকে জোরারগঞ্জ থানার অন্তর্গত ৬নং ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চরশরৎ এলাকার মীরসরাই ইকোনমিক জোন সংলগ্ন ভাবীর মোড় থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অপহরণের পর পরই আসামিরা ভিকটিমের মা কামরুননাহারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে এবং ছেলেকে জীবিত ফিরে পেতে ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে। ছেলের প্রাণনাশের হুমকিতে দিশেহারা হয়ে মা কামরুননাহার কালক্ষেপণ না করে দ্রুত জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি নিয়মিত অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। এরপরই শুরু হয় পুলিশের তৎপরতা। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল হালিমের চৌকস নেতৃত্বে এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মতিউর রহমানের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৫শে সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে মীরসরাই ইকোনমিক জোনের ভাবীর মোড় এলাকার একটি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে আকস্মিক ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এই দুঃসাহসিক অভিযানে অপহরণ চক্রের পাঁচ সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সীতাকুণ্ডের উত্তর ছলিমপুর এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে মোঃ আকরাম, সন্দ্বীপ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ জসিম উদ্দিনের দুই ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মোঃ তাইজুল, একই এলাকার জোবাইদুল ইসলামের ছেলে মোঃ ইমন এবং সন্দ্বীপের রহমতপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের হাজী মোঃ আশ্রাফুলের ছেলে মোঃ ইউনুছ। আসামিদের ডেরা থেকে অপহৃত যুবক মোঃ মহসিনকে সম্পূর্ণ জীবিত ও শারীরিকভাবে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সমাজে অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ স্থানীয় জনমনে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

