মিরসরাইয়ে টিলা ধসে ম'র্মান্তিক মৃ'ত্যু।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বসতভিটা ভরাটের জন্য টিলার মাটি কাটতে গিয়ে মাটি চাপা পড়ে সায়েম (১৫) নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।নতুন একটি নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাসখানেক আগে ঠিকানা বদলেছিলেন তারা। কিন্তু সেই নতুন ঠিকানাই যে কিশোর সায়েমের জীবনের শেষ গন্তব্য হবে, তা কে জানতো! চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় নিজের বসতভিটা ভরাট করার জন্য টিলার মাটি কাটতে গিয়ে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে মোঃ সায়েম নামের ১৫ বছর বয়সী এক অদম্য কিশোর। গত বুধবার (১৭ জুন) রাত আটটার দিকে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের গেরামারা এলাকার বড়থলি গ্রামে এই হৃদয়বিদারক পাহাড় ধসের ঘটনাটি ঘটে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত কিশোর সায়েম পিতৃহীন। তার বাবার নাম মৃত বশর আহমেদ, যাঁদের আদি নিবাস ছিল ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজপানুয়া এলাকায়। গত প্রায় এক মাস আগে সায়েমের মা ছালেহা বেগম এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের বড়থলি গ্রামে নতুন জায়গা কিনে বসবাস শুরু করেন। সেখানে অত্যন্ত কষ্ট করে একটি ছোট টিনের ঘর নির্মাণ করেছিলেন তারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেই ছোট ঘরটির ঠিক পাশেই রয়েছে একটি উঁচু টিলা। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনানুসারে, পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় কিশোর সায়েম দিনের বেলায় দিনমজুর হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করতো। আর রাতের বেলা নিজের পরিবারের আবাসস্থলটি আরও বাসযোগ্য করার উদ্দেশ্যে পাশের টিলা থেকে একা একাই মাটি কেটে বসতভিটা ভরাটের কাজ করতো। ঘটনার দিন, অর্থাৎ বুধবার রাতেও সায়েম মাটি কাটছিল। এ সময় তার আশপাশেই সোহেল রানা নামের আরেক কিশোরসহ বেশ কয়েকজন খেলাধুলা করছিল। হঠাৎ করেই টিলার একটি বিশাল মাটির স্তূপ তাদের ওপর ধসে পড়ে। চোখের পলকেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় সায়েম ও সোহেল। ঘটনার আকস্মিকতায় আশপাশের মানুষ দ্রুত ছুটে আসেন। মাটি সরিয়ে তাদের উদ্ধারে শুরু হয় প্রাণপণ চেষ্টা। দীর্ঘ প্রায় ২০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের পর স্থানীয়রা মাটির নিচ থেকে দুই কিশোরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কিশোর সায়েমকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে মাটির নিচে চাপা পড়লেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় সোহেল রানা। সে আঘাত পেলেও প্রাথমিক চিকিৎসার পর বর্তমানে সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, পাহাড় ধসের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে যখন হাসপাতালে নেওয়া হয়, তখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে একজন কিশোরের মৃত্যুর বিষয়টি চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন। মা হারালো তার আদরের সন্তানকে, আর একটি পরিবার হারালো তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। নতুন ঘরের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই টিলার নিচে চাপা পড়ে সায়েমের এই অকাল মৃত্যু পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। পাহাড় বা টিলা কাটার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সায়েমের মৃত্যু যেন তারই এক করুণ দৃষ্টান্ত।

