‘আল্লাহু আকবার’ খচিত ইরাকের পতাকায় ফিফার বিশেষ সম্মান
‘আল্লাহু আকবার’ লেখা থাকায় ইরাকের পতাকাকে বিশেষ সম্মান জানাল ফিফা। ঘাসের ওপর না বিছিয়ে অভিনব প্রোটোকলে প্রদর্শন করা হয় পতাকাটি।বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা সাধারণত তাদের নিয়মকানুন ও প্রোটোকলের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। তবে এবার ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের প্রতি এক অনন্য শ্রদ্ধাবোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক ফুটবল মঞ্চে পবিত্র লিপি সংবলিত পতাকার মর্যাদা রক্ষার্থে ফিফা এক অভাবনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জানা গেছে, ইরাকের জাতীয় পতাকায় ‘আল্লাহু আকবার’ লেখা থাকায় ম্যাচ শুরুর আগের আনুষ্ঠানিকতায় সেটি মাঠের ঘাসের ওপর বিছানো থেকে বিরত থেকেছে কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার, ১৭ জুন, অনুষ্ঠিত হওয়া ইরাক বনাম নরওয়ের মধ্যকার একটি শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের আগে এমনই এক বিরল ও সম্মানজনক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে গোটা বিশ্ব। ফুটবল বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, খেলা শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত চলাকালে দুই দেশের বিশালাকার পতাকা মাঠের সবুজ গালিচায় বিছিয়ে প্রদর্শন করাটাই প্রচলিত রীতি। কিন্তু ইরাকের পতাকার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় ইরাকের বিশাল পতাকাটি মাঠে না বিছিয়ে শূন্যে উঁচু করে ধরে রাখা হয়। ফিফার এই সিদ্ধান্তের পেছনের মূল কারণ হলো ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা। পতাকায় উৎকীর্ণ ‘আল্লাহু আকবার’ বা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণাকারী এই পবিত্র বাণী যেন কোনোভাবেই মাটিতে বা কারো পায়ের সংস্পর্শে না আসে, সেটি নিশ্চিত করতেই এমন অভিনব প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বমঞ্চে এমন সম্মান শুধু ইরাকই নয়, সৌদি আরবও পেয়ে থাকে। সৌদি আরবের জাতীয় পতাকায় ইসলামের পবিত্র কালিমা খচিত রয়েছে। তাই এই দুই দেশের ক্ষেত্রেই ফিফা তাদের চিরাচরিত নিয়মের বাইরে গিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে ফিফার এই পদক্ষেপটি শুধু ধর্মীয় শ্রদ্ধাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সমতা ও নিরপেক্ষতার এক দারুণ বার্তাও বহন করেছে। মাঠে যেন এমন কোনো ধারণা তৈরি না হয় যে, একটি নির্দিষ্ট দলকে বাড়তি সুবিধা বা আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—সেজন্য ফিফা অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। ইরাকের পতাকার পাশাপাশি তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ের জাতীয় পতাকাটিও একইভাবে মাটি থেকে শূন্যে উঁচু করে প্রদর্শন করা হয়। এই চমৎকার উদ্যোগের মাধ্যমে ফিফা যেমন ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা করেছে, তেমনি উভয় দলের প্রতি সমান সম্মান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অনন্য নজিরও স্থাপন করেছে। বিশ্বকাপ বা আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় আসরগুলোতে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে কেবল সৌদি আরব এবং ইরাকের জাতীয় পতাকাতেই পবিত্র ধর্মীয় লিপি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর এই পবিত্রতার প্রতি ফিফার এমন বিনম্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্ত এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, খেলাধুলা কেবল বিনোদন বা প্রতিযোগিতাই নয়, বরং এটি বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মেলবন্ধনের এক বিশাল মঞ্চ।

