২০৩০ বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালেন লিওনেল মেসি।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি। সেই সাথে ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে স্পষ্ট জানালেন নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।ফুটবল বিশ্বের এক জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে সর্বকালের সেরা বলা হয়। কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে এক জাদুকরী পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মাত্র ৮০ মিনিটের কিছু বেশি সময় মাঠে ছিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। আর এই অল্প সময়ের মাঝেই তিনি ফুটবল ইতিহাসের একাধিক পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ এক হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে আসীন হয়েছেন মেসি। শুধু তাই নয়, প্রথম ফুটবলার হিসেবে রেকর্ড টানা ছয়টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক কীর্তিও নিজের ঝুলিতে পুরেছেন তিনি। আটত্রিশ বছর বয়সে এমন নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরবও এখন কেবল তার। বয়স ৩৯-এর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকলেও মেসির পায়ের জাদুতে মুগ্ধ পুরো বিশ্ব। কানসাস সিটির সেই ঐতিহাসিক ফুটবল রাতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের জন্য তিনি এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন। ফরাসি ফুটবল গ্রেট জিনেদিন জিদানের পুত্র ও আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানকে মেসির সেই অতিমানবীয় আগ্রাসনের নির্মম শিকার হতে হয়েছে। টুর্নামেন্টের একেবারে প্রারম্ভিক পর্যায়ে এমন বিধ্বংসী রূপ দেখে ভক্তরা স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত। এই বিশ্বকাপের রেশ কাটতে এখনও এক মাসের বেশি সময় বাকি থাকলেও, মেসি-ভক্তরা এখনই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন ২০৩০ সালের আগামী আসরে তাদের প্রিয় তারকাকে দেখার। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৪২ বছর। অনেকেই মনে করছিলেন, বয়সকে হার মানিয়ে হয়তো সেই আসরেও তিনি মাঠে নামবেন এবং আরও অসংখ্য রেকর্ড নিজের নামে করে নেবেন। এর আগে মেসি নিজেও বেশ কয়েকবার জানিয়েছিলেন, শরীর সায় দেওয়া পর্যন্ত তিনি ফুটবল চালিয়ে যেতে চান। তবে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন এই ফুটবল ঈশ্বর। ভবিষ্যতে নিজের সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মেসি একগাল হেসে অত্যন্ত সাবলীলভাবে বলেন, 'না, না, এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।' অর্থাৎ, আগামী বিশ্বকাপে তাকে আর খেলোয়াড় হিসেবে দেখা যাবে না, তা তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তার পুরো মনোযোগ শুধুই চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের দিকে নিবদ্ধ। এই টুর্নামেন্টের আটটি ম্যাচেই মাঠে নামতে এবং নিজের সেরাটা উজার করে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরাতে তিনি বদ্ধপরিকর। সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে মেসি জানিয়েছেন, তারা শিরোপা ধরে রাখার জন্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়বেন। বর্ণাঢ্য ও মহিমান্বিত ক্যারিয়ারের একদম গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়েও তিনি যে ফুটবলের প্রতিটি মুহূর্ত পরম আনন্দে উপভোগ করছেন, তার শরীরী ভাষাই সেটি বারবার প্রমাণ করে দিচ্ছে।

