এক দিনেই ঝরল আরও ১২ শিশুর প্রাণ, মোট মৃত্যু ৪৫১
দেশে হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ১২ শিশুর মৃত্যু। ১৫ মার্চ থেকে মোট প্রাণহানি ৪৫১। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে বাড়ছে আতঙ্ক।![]() |
| হামে আক্রান্ত শিশু রোগীরা হাসপাতালের পিআইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন। বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতাল, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জ। ১৩ মে | মোহাম্মদ মিলন মিয়াজি |
বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে এখন এক নীরব আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হাম’। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাম ও এর উপসর্গে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১২ জন ফুটফুটে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এই ১২ জন শিশুর মধ্যে চারজনের শরীরে হামের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্যদিকে, বাকি আটজন শিশু হামের সব ধরনের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। শুধু মৃত্যু নয়, আক্রান্তের সংখ্যাও রীতিমতো উদ্বেগজনক। একই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন করে আরও ১ হাজার ১৯২ জন শিশুর দেহে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এছাড়া, সম্পূর্ণ ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় ১১১ জন শিশুর শরীরে হামের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। মৃত শিশুদের এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, হাম নিশ্চিত হওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের, একজন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং অপরজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আট শিশুর মধ্যে তিনজন ঢাকা ও তিনজন চট্টগ্রাম বিভাগের। এছাড়া ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগেও একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা বোঝা যায় চলতি বছরের গত ১৫ মার্চের পর থেকে পাওয়া সার্বিক পরিসংখ্যানে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৭৭ জন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি, হাম নিশ্চিত হওয়ার পর প্রাণ হারিয়েছে আরও ৭৪ জন শিশু। সব মিলিয়ে এই পর্যন্ত দেশে ৪৫১ জন শিশুর অকাল মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিস্তারিত তথ্য আরও জানাচ্ছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৫৫ হাজার ৬১১ জন শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এদের মধ্যে ৪০ হাজার ১৭৬ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। তবে এত হতাশার মাঝেও আশার কথা হলো, চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৫৫ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেছে। এই পুরো সময়ে দেশে মোট ৭ হাজার ৪১৬ জন শিশুর দেহে হাম রোগটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল সংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, হাম নামক এই মারাত্মক ব্যাধি মোকাবিলায় আমাদের স্বাস্থ্য খাতকে আরও সচেতন ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের সঠিক সময়ে হামের টিকা প্রদান নিশ্চিত করা এবং শরীরে যেকোনো ধরনের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

