x

Tenolent

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

Logo

Tenolent

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

[tenolentSC] / results=[3] / label=[latest] / type=[headermagazine]

নাটোরের লালপুরে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় বসেছেন ৪০ বছর বয়সী মা

নাটোরের লালপুরে বয়সের বাধা পেরিয়ে ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন ৪০ বছর বয়সী মা। বিরল এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক অনুপ্রেরণার জন্ম দিয়েছে।
প্রকাশঃ
অ+ অ-

শিক্ষার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বয়সেই যে শিক্ষার আলো গ্রহণ করা যায়, তার এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে নাটোরের লালপুর উপজেলায়। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই ও প্রতিকূলতা পার করে ৪০ বছর বয়সে এসে নিজের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণের পথে হেঁটেছেন ফুলঝড়ি বেগম নামের এক অদম্য নারী। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো, তিনি কোনো সাধারণ পরীক্ষার্থী নন; বরং নিজের ১৫ বছর বয়সী ছেলে মনিরুল ইসলামের সঙ্গেই তিনি চলতি বছরের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। অভাবনীয় এই দৃশ্যটি সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের পাশাপাশি মানুষের মনে গভীর অনুপ্রেরণার জন্ম দিয়েছে। জানা যায়, লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এই মা ও ছেলে। তারা উভয়েই মোহরকয়া নতুনপাড়া মাধ্যমিক কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেদের নাম লিখিয়েছিলেন। বর্তমানে তারা উপজেলার মধুবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে একসঙ্গে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। ফুলঝড়ি বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম পেশায় একজন সাধারণ ভ্যানচালক। অভাবের তাড়নায় তাকে মাঝেমধ্যে দিনমজুরের কাজও করতে হয়। তবে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন কখনোই এই পরিবারের শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের পাশাপাশি স্ত্রীর পড়াশোনার খরচ যুগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এই দম্পতির বড় মেয়ে ইতোমধ্যে নার্সিং পড়াশোনা শেষ করে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। নিজের জীবনের এই নতুন অধ্যায় সম্পর্কে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ফুলঝড়ি বেগম এক আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, খুব অল্প বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হওয়ায় তার আর পড়াশোনা করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেছে কেবল সংসার সামলাতে এবং সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। কিন্তু মনের গহীনে সবসময় একটি সুপ্ত বাসনা ছিল, অন্তত এসএসসি পরীক্ষার পরিবেশটা নিজের চোখে দেখার। আজ ৪০ বছর বয়সে এসে স্বামী, সন্তান ও পরিবারের পূর্ণ সমর্থন পেয়ে তার সেই আজীবনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। সমাজের কিছু মানুষ বিষয়টিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলেও এবং নানা রকম সমালোচনা করলেও, ফুলঝড়ি বেগম এসবে কান দিতে নারাজ। তার মতে, নিজের সন্তানের সাথে পরীক্ষা দিতে পারার এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সবার কাছে তিনি কেবল দোয়াপ্রার্থী। অন্যদিকে, মায়ের এই অসাধারণ উদ্যোগে ভীষণ আনন্দিত ছেলে মনিরুল ইসলাম। সে জানায়, যে মা তাদের এত কষ্ট করে বড় করেছেন, আজ তাকেই নিজের পাশে পরীক্ষার্থী হিসেবে দেখে সে পড়ালেখায় আরও বেশি উৎসাহ পাচ্ছে। মায়ের এই শিক্ষাসফর যেন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে, সেটাই তার একান্ত কাম্য। স্ত্রী শিক্ষার প্রতি অগাধ সম্মান প্রদর্শন করে স্বামী নজরুল ইসলাম জানান, একজন শিক্ষিত মা-ই পারেন একটি শিক্ষিত ও সুন্দর জাতি উপহার দিতে। আর সে কারণেই তিনি স্ত্রীর এই মহৎ ইচ্ছাতে বিন্দুমাত্র বাধা দেননি। ভ্যান চালিয়ে এবং দিনমজুরি করে উপার্জিত অর্থ দিয়েই তিনি সংসারের হাল ধরার পাশাপাশি পড়াশোনার খরচ বহন করছেন এবং স্ত্রী যতদূর পড়তে চাইবেন, ততদূর তাকে পড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই পরিশ্রমী মানুষটি। এই বিরল ও অনুপ্রেরণামূলক ঘটনাটি প্রসঙ্গে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ অত্যন্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ফুলঝড়ি বেগমের এই সাহসী পদক্ষেপ শুধুমাত্র লালপুর নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের নারী শিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিশাল অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বয়স কখনোই জ্ঞান অর্জনের পথে অন্তরায় হতে পারে না। এই অদম্য নারীর উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করেন তিনি।

Delete Comment?

Are you sure you want to permanently delete this comment?

User
OR
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন