বিসিবি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না ইশরাক:
বিসিবি নির্বাচনে প্রার্থী না হয়ে কেবল ভোটার হিসেবে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। পাশাপাশি সাকিব-মাশরাফির ফেরা নিয়ে দিলেন কড়া বার্তা।বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে বইছে তুমুল আলোচনার ঝড়। তবে এই নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই একটি বড় খবর সামনে এসেছে। আসন্ন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন না বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের হেভিওয়েট কাউন্সিলর ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও একজন দায়িত্বশীল কাউন্সিলর হিসেবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন তিনি। আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১৬ মে, শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করা হয়। বিসিবির ঘোষিত তফসিলের তথ্য অনুযায়ী, সর্বমোট ১৯২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে এরই মাঝে ১৮৪টি কাউন্সিলরশিপ বোর্ডে জমা পড়েছে। তবে কয়েকটি নির্দিষ্ট জেলা এবং বেশ কয়েকটি ক্রীড়া সংস্থা সময়মতো তাদের কাউন্সিলরশিপ জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমানে আটটি পদ শূন্য অবস্থায় রয়েছে। সোমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থান একদম পরিষ্কার করেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাউন্সিলর হিসেবে আমি বোর্ডে থাকছি। তবে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ কিংবা নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো কার্যক্রমে আমার সরাসরি যুক্ত থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমি কেবল একজন সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যাব এবং নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করব। তার এই বক্তব্যের পর বিসিবির নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, ক্রিকেট পাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জাতীয় দলের সাবেক দুই সফল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং মাশরাফি বিন মর্তুজার বিষয়েও এদিন মুখ খোলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। দেশের এই দুই তারকা ক্রিকেটারের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বেশ কড়া ও সুস্পষ্ট বার্তা দেন। ইশরাক হোসেন মন্তব্য করেন যে, সাকিব ও মাশরাফি যদি পুনরায় দেশে ফিরে আসতে চান, তবে সর্বপ্রথম দেশের সাধারণ জনগণের কাছে তাদের কৃতকর্মের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাইতে হবে। এরপর দেশে ফেরার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে। সরকার তখন সার্বিক পরিস্থিতি এবং জনমত বিবেচনা করে তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। সব মিলিয়ে বিসিবির আসন্ন নির্বাচন এবং ক্রিকেটের বাইরের এই ইস্যুগুলো নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক ভিন্নধর্মী আবহের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৭ জুনের নির্বাচনে কারা আসেন বিসিবির নতুন নেতৃত্বে এবং সাকিব-মাশরাফি ইস্যুতে জল কতদূর গড়ায়।

