অকাল মৃত্যু রোধ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব।
তরুণ সমাজকে ধূমপান থেকে দূরে রাখতে এবং রাজস্ব বাড়াতে প্রতিটি সিগারেটের দাম সর্বনিম্ন ১৭ ও সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব। জানুন বিস্তারিত।দেশের তরুণ সমাজকে মরণঘাতী ধূমপানের বিষাক্ত ছোবল থেকে দূরে রাখতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তামাকের ভয়াল থাবা থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করা, অকাল মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা এবং সেই সাথে রাষ্ট্রের কোষাগারে রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধির সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে এবার সিগারেটের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাজারে প্রচলিত প্রতিটি সিগারেটের খুচরা মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। এই নতুন প্রস্তাবে প্রতিটি সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ, ভোক্তাদের এখন থেকে এক শলাকা সিগারেট কিনতেও বেশ বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে তরুণদের মাঝে ধূমপানের প্রবণতা এক উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই এই মরণনেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যার ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগসহ নানা জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এই অকাল মৃত্যু ঠেকাতে এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো কার্যকর বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, এই প্রস্তাবনা কার্যকর হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতেও একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তামাক খাত থেকে এমনিতেই সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেয়ে থাকে। সিগারেটের দাম যদি এই প্রস্তাবিত হারে বৃদ্ধি পায়, তবে সরকারের কর ও ভ্যাট আদায়ের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাবে। এই বর্ধিত রাজস্ব দেশের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করার সুযোগ তৈরি হবে। সব মিলিয়ে, সিগারেটের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবটি যেমন তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার একটি ঢাল হিসেবে কাজ করবে, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকেও আরও মজবুত করবে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকরা এই যুগান্তকারী প্রস্তাবটি কত দ্রুত চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে বাস্তবে রূপদান করেন।

