ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় শান্তি রক্ষায় বিএনপি এমপি নুরুল আমিনের বার্তায় মুগ্ধ নেটদুনিয়া
প্রবীণ রাজনীতিক মোশাররফ হোসেনের জানাজায় শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় বিএনপি এমপি নুরুল আমিনের বিশেষ বার্তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছাপিয়ে সৌজন্য ও সম্প্রীতির এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা নুরুল আমিন। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন। এদিন বাদ আসর স্থানীয় ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তাঁর শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দলমত নির্বিশেষে শোকাহত হাজারো জনতা এই জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এই শোকাবহ পরিবেশকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন এমপি নুরুল আমিন। বর্তমান সময়ের সংঘাতময় রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি এক বিশেষ ও কঠোর নির্দেশনামূলক বার্তা প্রদান করেন। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে দেওয়া ওই ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ১৪ মে ২০২৬ তারিখে মীরসরাই উপজেলাজুড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বা এর কোনো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পূর্বনির্ধারিত কোনো কর্মসূচি নেই। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সংসদ সদস্যের এই সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। নেটিজেনরা মন্তব্য করেন, বর্তমানের অস্থির ও অসহিষ্ণু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দেশের সব রাজনৈতিক নেতাদের জন্যই এক অনুকরণীয় আদর্শ। এনাম চৌধুরী নামের এক ব্যবহারকারী এমপির পোস্টে মন্তব্য করে লেখেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। এমপি মহোদয়ের এমন সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা মেনে চলাই প্রকৃত রাজনৈতিক শিষ্টাচারের উদাহরণ। ধৈর্য ধারণ করাই হচ্ছে মহত্বের আসল প্রমাণ। বেলাল হোসেন নামের অপর এক ব্যক্তি লেখেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের কল্যাণ সাধন করা। আপনার এই অসাধারণ উদ্যোগ থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, নূর মোহাম্মদ নামের এক বিএনপি সমর্থক নেতাকে আশ্বস্ত করে লেখেন, আপনার নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে, ইনশাআল্লাহ মীরসরাইয়ে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া হবে না। প্রসঙ্গত, সাধারণ মানুষের সাথে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখা নুরুল আমিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা এই জননেতা তাঁর জনপ্রতিনিধিত্বের যাত্রা শুরু করেছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের একজন সাধারণ ইউপি সদস্য হিসেবে। নিজ যোগ্যতায় এরপর তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এই ধারাবাহিক উত্থান প্রমাণ করে তৃণমূলের সাথে তাঁর গভীর সংযোগের কথা, যার সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেল মোশাররফ হোসেনের বিদায়বেলায় এই অসাধারণ রাজনৈতিক শিষ্টাচার প্রদর্শনের মাধ্যমে। মীরসরাইয়ের এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়ে গেল, যা আগামী দিনের সুস্থ ধারার রাজনীতির পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।

