করেরহাট ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারি এয়াছিন মিজান
মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারি এয়াছিন মিজান। পরিচ্ছন্ন ইমেজের এই নেতার বিস্তারিত জানুন।![]() |
| করেরহাটে বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারি এয়াছিন মিজান: চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় পরিচ্ছন্ন এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব |
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়ন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে এখানকার রাজনৈতিক মাঠ এখন সরগরম। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। আর এই আলোচনা-পর্যালোচনায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মুখে মুখে এখন একটি নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন মো. এয়াছিন মিজান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। পশ্চিম অলিনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা এয়াছিন মিজান ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিতে নিজেকে যুক্ত করেন। রাজনৈতিক মাঠে তার পথচলা শুরু হয় অত্যন্ত তৃণমূল পর্যায় থেকে। ১৯৯৫ সালে বারৈয়ারহাট কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে তিনি প্রথম নেতৃত্বের গুণাবলী প্রমাণ করেন। এরপর ১৯৯৭ সালে করেরহাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৮ সালে মিরসরাই উপজেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেন তিনি। বর্তমানে তিনি করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিবের মতো গুরুদায়িত্ব পালন করে দলকে সুসংগঠিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের অন্যতম আস্থাভাজন ও পরীক্ষিত কর্মী হিসেবেও তার সুখ্যাতি রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় একজন নেতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো দলের দুঃসময়ে টিকে থাকা। এয়াছিন মিজান সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক বীর সেনানী। বিগত বছরগুলোতে চরম বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি নিজ আদর্শ থেকে এক চুল পরিমাণও বিচ্যুত হননি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে অন্তত ৭টি গায়েবি ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার আসামি হতে হয়েছে। তবুও তিনি ভয় পাননি, পিছু হটেননি। হামলা-মামলার ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে মাঠে থেকেছেন, দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। এ কারণেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাকে ভালোবেসে দুঃসময়ের কান্ডারি উপাধিতে ভূষিত করেছেন। রাজনীতি তার কাছে কেবল ক্ষমতা নয়, বরং সমাজসেবার এক পবিত্র মাধ্যম। একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে সব সময় এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যেকোনো দুর্যোগে তিনি নীরবে-নিভৃতে মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছেন। তার এই মানবিক গুণাবলী ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক চরিত্র কেবল দলীয় গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই, দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে তার জন্য তৈরি করেছে এক বিশাল আস্থার জায়গা। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে করেরহাটের সাধারণ ভোটাররা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাইছেন, যিনি হবেন সৎ, সাহসী ও জনদরদী। এয়াছিন মিজানের জীবনের এই দীর্ঘ ত্যাগ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সততাই প্রমাণ করে যে, তিনি একজন প্রকৃত জননেতা। করেরহাট ইউনিয়নকে একটি মডেল ও আধুনিক জনপদে রূপান্তরিত করতে নিজের মেধা, শ্রম ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এই পরীক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এখন দেখার বিষয়, আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের এই বিপুল জনসমর্থন তাকে চেয়ারম্যানের আসনে কতটুকু এগিয়ে নেয়।

